একুশে সমুদ্রের ডাকে কক্সবাজারে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ২১:৪০

মানুষ আর সমুদ্রের মধ্যে গভীর মিতালি সে প্রাচীনকাল থেকে। বায়ু পরিবর্তনের জন্য কিংবা নিছক আনন্দের জন্য বন্ধু-পরিজন নিয়ে কোথাও যাওয়ার কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় সমুদ্রের কথা। সমুদ্রের সঙ্গে এই যে আত্মার বন্ধন, তা চাইলেও তো ছিন্ন করা যায় না। এ আনন্দ লাভের জন্য এবার সমুদ্রের ডাকে সাড়া দিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যাত্রা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। ১৭ ফেব্রুয়ারি কুবিসাসের সাবেক ও বর্তমানের মধ্যে আনন্দের মেলা বসে কক্সবাজারে। ৪৮ জনের বহর নিয়ে দুই দিন যাত্রা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। শিক্ষক, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বদের উপস্থিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে বনভোজনটি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় বাস ও মাইক্রোবাস দুইটি কক্সবাজারে পৌঁছে । রুমে চেকিং   ইন করার পর সকালের নাস্তা শেষ করার পর যেন তর সয়না সবার। বিশ্রাম না নিয়ে ছুটে            যায় সমুদ্রে গা ভিজাতে। এ যেন সমুদ্রের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। লোনা জ্বলে গা ভিজানো কত আনন্দ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ দেখান সদ্য বিদায়ি               সভাপতি জাহিদুল ইসলাম । তিনি বলেন, ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছি কিন্তু বন্ধনের মায়া এখনো সজীব। বনভোজনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব আর সৌহাদ্যতা আরো          গভীর হবে।

কুবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আহসান হাবিব ও তার স্ত্রী নাজনীনের সমুদ্রের সঙ্গে মিতালির খুনসুটি চমকপ্রদ ছিল। সমুদ্রে গা ভিজিয়ে সবার চোখে-মুখে আনন্দ যেন বলে দেয় ভ্রমণের দিনগুলোই আমাদের। বিকালের সময়টা যেন সমুদ্রের আভায় শিহরণ করে নেয়। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক যেন সরগম। কেউ কেউ সূর্যকে হাতে, কেউ মুখের মধ্যে ছবি ধারণ করা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। 

শেষ দিন দর্শনের জন্য রাখা হয় রামু বৌদ্ধ বিহার আর রাবার বাগান। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড় চূড়ায় ১০০ ফুট লম্বা গৌতম বুদ্ধের সিংহশয্যা মূর্তি দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়। এর আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় বৌদ্ধবিহার।

 রাবার বাগানের সারি সারি রাবার গাছগুলো সত্যিই মনোমুগ্ধকর। রাবার ছড়ানোর কারু-কার্যগুলো সামনাসামনি না দেখলে বোধগম্য হতো না। একটু সামনে গেলে বাগানের ভেতরে দেখা যায় বাসভবন। তার পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে শতবর্ষের বটগাছ। তারাই যেন কালের সাক্ষী হয়ে অতন্ত্র প্রহরী ন্যায় পাহারা দিচ্ছে পুরো রাবার বাগান। আর এদিকে আবার শিক্ষকদের একটা অংশ রোহিঙ্গাদের দেখতে চলে যায় উখিয়ায়। রোহিঙ্গাদের জীবন ব্যবস্থা কাছ থেকে অবলোকন করেন তারা।

কুবিসাসের প্রতিষ্ঠা আহ্বায়ক আহসান হাবিব বলেন, সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কটা একান্তই আত্মিক গভীরতার। এর প্রতিটি কলাকুশলী আত্মার স্বজন। যে কোনো সম্পর্ককে অধিকতর হূদ্যতাপূর্ণ করতে ভ্রমণের মতো ‘ইনফর্মাল আয়োজনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবারকার এই সফরও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ককে আরো জোরদার করেছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সম্পর্কের এই নতুন মাত্রা কুবিসাসের আগামী পথচলাকে সমৃদ্ধতর করবে, এমনটাই প্রত্যাশা। ক্লান্তি আর বিষন্নতা থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচতে ও সজীবতা পেতে প্রতি বছর বনভোজনের আয়োজন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।