মেয়েদের প্রতি সমাজ এখন বৈষম্য করে বলে তিনি মনে করেন। মেয়েদের মেধা কম বিবেচনা করে ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত, রসায়ন পর্দাথ বিদ্যার মতো বিষয় না পড়তে দিয়ে মানবিক বিষয় পড়তে উত্সাহিত করা হয়। ফলে তিন দশক হলেও আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ খুব কম। তিনি যখন ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়তে চান, তাকে পরিবার থেকে মানা করা হয়। নতুন বিষয় এর ভবিষ্যত্ কেমন—এমন নানা ভয় দেখানো হয়। লাফিফা নিজের আত্মবিশ্বাস-এর ওপর ভর করে বলেন আমি এই বিষয়ই পড়ব । আমার মনে হয়, আমি ভাল করতে পারব। ড. লাফিফা জামাল ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন প্রতিষ্ঠাতা। বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ উইমেন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সহসভাপতি বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)-এর, আর বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির কোষাধ্যক্ষও দায়িত্ব পালন করেন। নিজের এই অবস্থানের পেছনে লাফিফা পরিবরের সহযোগিতার কথা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাবা মাতো বটে আমার শ্বশুড়ি মাও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমি রান্না কিংবা অন্য কাজে সহযোগিতা করতে গেলে আমাকে করতে দিতেন না। বলতেন তোমার তুমি পড়াশোনা কর। সন্তান নারীর জীবনে যেমন অন্যতম আকাঙ্খা, তেমন কর্মজীবনে বড় প্রভাব ফেলে। কিন্তু আমার স্বামী, শাশুড়ি, মা আমার পেশাগত জীবন গতিময় করতে সন্তানের অনেক দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে আমি আমার দেশের বাইরে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মজীবন বর্ণিল করতে পেরেছি।
