লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ধানগাছসহ ফসলি জমির মাটি বেপরোয়াভাবে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এতে মাটির উর্বরা শক্তি কমে ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, জমির মাটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহূত ভারী ট্রলির চাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনচলাচলের রাস্তাঘাট।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ২৩টি ইটভাটা। অধিকাংশ ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য আশপাশের জমি থেকে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে উর্বর টপ সয়েল। উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া, হানুবাইশ, নোয়াগাঁও, কাটাখালি, হাজিরপাড়া, কাঞ্চনপুর, ইছাপুর, পানিয়ালা, মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রোড, ভোলাকোট, চন্ডিপুর, লামচর, ভাদুর ও দরবেশপুর, কচুয়া, আলীপুর ইউনিয়নের আবাদি জমির ওপরের অংশ এক থেকে দুই ফুট গর্ত করে কাটা হয়েছে। কোথাও কোথাও কোমর সমান গর্ত করে মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটার জন্য। রামগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে রোপণ করা ধানী জমির ধানগাছসহ মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। মাটি কাটার কাজ দ্রুত করার জন্য বড় আকারের বুলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে কোথাও কোথাও। আর এসব মাটি ট্রাক্টর, ট্রাক ও ট্রলিতে বোঝাই করে ইট ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন ২৩টি ইট ভাটায় প্রায় ৫শ থেকে ৫৫০ ট্রলি মাটির প্রয়োজন হয় বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় রাইসুল ইসলাম, কলেজ শিক্ষার্থী আহম্মেদ নুরসহ অনেকেই জানান—সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদী, চরাঞ্চল, পতিত ও আবাদি জমি থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না অনেকেই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে কোনো ভারী যানবাহন দিয়ে ইট বা ইটভাটার কাঁচামাল আনা-নেওয়ার কারণে রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া, কাঠের পরিবর্তে কয়লা ব্যবহারের কথা থাকলেও বেশির ভাগ ইটভাটায় তা মানা হচ্ছে না।
রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. আবদুল্লাহ আল মাঈদ বলেন, শুধু ফসলি জমির মাটি নিয়ে জমির উর্বরতা হ্রাস করা হচ্ছে তা নয়। লোকালয় ও জনবসতির আশেপাশে ইটভাটা নির্মাণের ফলে শ্বাসকষ্টসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন ইটভাটা এলাকার লোকজন।
রামগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী জানান, ইট ভাটা ও নিচু জায়গা ভরাটে মাটির চাহিদা বেশি থাকায় তারা মাটি বিক্রির দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানে জমি না বিক্রি করে মাটি বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়।
রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের মাটি বিক্রি না করার বিষয়ে সচেতন করার পরও তারা কথা শুনছেন না। একবার মাটি কাটা জমিতে আগের মতো উর্বরা শক্তি ফিরে আসতে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময় লাগে। আর এভাবে মাটি বিক্রি অব্যাহত থাকলে এক সময় ফসল উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল করিম বলেন, অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানো হবে। সরকারি আইন অনুযায়ী ইট ভাটায় ফসলি জমির মাটি ব্যবহার করা যায় না। ইটভাটা মালিকদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি কোথাও তা হয়ে থাকে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
