লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা আট দিনে ১২ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩১

 

যাত্রীসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

গত আট দিনে একই পরিবারের ৬ জনসহ ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় লক্ষ্মীপুরে যাত্রীসাধারণের মধ্যে চলাচলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চলাচলরত যানবাহনে অদক্ষ চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়া গতিকেই এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা। আর এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরো প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্নস্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পৌর শহরের দক্ষিণ তেমুহনীস্থ অফিসার্স ক্লাবের সামনে পিকআপ ভ্যানের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে মিজানুর রহমান রুবেল (৩৫) নামের এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়। নিহত মিজানুর রহমান রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের লাহারকান্দী মোল্লাবাড়ীর দ্বিন মোহাম্মদের ছেলে ও টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এর আগেরদিন বুধবার লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম মান্দারী এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রাক-সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জন নিতহ হন। নিহতরা হলেন- সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রী একই পরিবারের শাহ আলম ও তার শিশু পুত্র অমিত হোসেন, সামছুন নাহার ও তার দুই মেয়ে নাছিমা আক্তার, রোকেয়া বেগম এবং মেয়ের জামাতা রুবেল হোসেন ও সিএনজি চালক নুর হোসেন। একই পরিবারের নিহত সবাই সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের সাদারঘর ও সিএনজি চালক নুর হোসেন একই উপজেলার নেয়ামতপুর এলাকার বাসিন্দা।

গত ২১ জানুয়ারি সকালে লক্ষ্মীপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের যাদৈয়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাজী সিরাজ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ইন্সপেক্টর ও কমলনগর উপজেলার চরজাঙ্গালিয়া গ্রামে আবদুল মতিনের ছেলে। ১৯ জানুয়ারি সকালে রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের নুড়ি গাছতলা এলাকায় লেগুনা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. আলাউদ্দিন স্বপন (৫০) নামে এক পথচারী নিহত হয়। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীরহাট সড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী গৃহবধূ সুমি নিহত হয়। নিহত সুমি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন এলাকার জয়দলের স্ত্রী।

গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরে লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট সড়কে পিকআপ ভ্যানচাপায় মো. ইদ্রিস মিয়া (৩৫) নামে এক বালু শ্রমিক নিহত হয়। নিহত ইদ্রিস সদর উপজেলার শাকচর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। দুর্ঘটনার আগে পিকআপ ভ্যানে বালু তুলছিলেন ইদ্রিস। এ সময় পেছন থেকে অপর একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দেয়।  এদিকে লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মোশারফ হোসেন মিঠু জানান, শুধু ছোট যানবাহনে দুর্ঘটনা ঘটছে তা নয়, ভারী যানবাহনেও প্রতিদিন জেলার কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় চালকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে ভুক্তভোগীদের। দায়ী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

লক্ষ্মীপুর ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. ইব্রাহিম বলেন, চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার করা, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং এবং পথচারীদের অসতর্কতায়ও দুর্ঘটনা ঘটছে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) জেলা সভাপতি কার্তিক সেনগুপ্ত বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। এরপরও সড়কের অবস্থা পাল্টায়নি। যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি থামিয়ে দিচ্ছে মানুষের জীবনের গতি। সড়কে এখন প্রাণ হাতে নিয়েই যাত্রা করতে হয় মানুষকে। জেলায় দুর্ঘটনা রোধে নিসচা বিভিন্ন সময় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত গাড়ির গতিরোধে ট্রাফিক বিভাগের ভূমিকাই মুখ্য।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই মামুনুর রশিদ বলেন, লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে অদক্ষ চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে। এসব বিষয় দেখভাল করা ও চালকদের সচেতন করার দায়িত্ব বিআরটিএ’র। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।