নাব্য সংকটে নন্দকূজা নদী এখন ফসলের মাঠ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৮

অপরিকল্পিত স্লু্ইসগেট নির্মাণ আর দখলে নাব্য সংকটে নন্দকূজা নদী এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে এক সময়ের স্রোতঃস্বিনী নদী বর্তমানে বিলীন হওয়ার পথে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ও সেচ কাজে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি নদীতে পানি না থাকায় জেলেরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট থেকে উত্পত্তি হয়ে পদ্মার শাখা বড়াল নদী বড়াইগ্রামের আটঘরিয়া এলাকায় এসে বনপাড়া অভিমুখে চলে গেছে। আর এখান থেকে নদীর অপর একটি ধারা নন্দকূজা নামে আহম্মেদপুর হয়ে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড়ে আত্রাই নদীতে গিয়ে পড়েছে। প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীতে এক সময় ছোট-বড় নৌকায় করে মাঝিমাল্লা ও সওদাগরেরা ছুটে চলতেন। জেলেরা মাছ ধরে আশপাশের বাজারে বিক্রি করতেন। কিন্তু ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রথমে চারঘাটে বড়ালের উত্সমুখে এবং পরে নব্বইয়ের দশকে আটঘরিয়ায় দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে পলি জমলেও দীর্ঘদিনেও ড্রেজিং না করায় ভরাট হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীটি শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুকনো নদীর মাঝখানে ৬-৭ হাত প্রস্থের একটি পানির ধারা বহমান রয়েছে। পানি সংকটে নদীতে মাছ না থাকায় দুই তীরে বসবাসকারী হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। মাঝিরা জীবিকার প্রয়োজনে ছেড়ে গেছে বাপ-দাদার পেশা। তীরবর্তী মানুষেরা নদীর বুকে ফসলের চাষ করেছেন। কেউ কেউ প্রথমে নদীর বুকে বীজতলা করেছেন, রোপণ করেছেন চারা। কেউ বুনেছেন গম বা খেসারীর বীজ। 

উপজেলার রামাগাড়ি এলাকার মত্স্যজীবী দুখু মিয়া বলেন, ‘এই নদীত মাছ ধইরি জীবনডা কাটাই দিলেম। কিন্তু এখন নদীত পানিই নেই, মাছ থাকপি কিভাবে। যেটুক পানি আছে তাতিও মাছ নেই। জাল আর নৌকা নিয়ে ঘুরিচ্ছি, কিন্তু মাছ পাচ্ছিনে। ’

জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান চাঁদ মোহাম্মদ বলেন, নন্দীকূজা নদীর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু নদী মরে যাওয়ায় তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই দ্রুত নদীটি পুনঃখনন জরুরি হয়ে পড়েছে।