অধিনায়ক বদলে সিলেটের জয়

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২০

প্লে-অফের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে পড়েছে খুলনা টাইটান্স। সমীকরণের সুঁতোয় টিকে ছিল সিলেট সিক্সার্সের সম্ভাবনা। আট ম্যাচে দুটি জয় ছিল তাদের। প্লে-অফের জন্য নিজেদের দাবিদারের অবস্থানে নিতে শেষ চার ম্যাচের চারটিই জিততে হবে। অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল সিলেট। সেই চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেওয়ার মিশনের শুরুটা দুর্দান্ত হলো সিলেটের।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে সিলেট। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহী কিংসকে ৭৬ রানে পরাজিত করেছে সিলেট। নয় ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়। সমান ম্যাচে রাজশাহীর পঞ্চম হার। প্রথমে ব্যাট করে ছয় উইকেটে ১৮০ রান তুলেছিল সিলেট। জবাবে ১৮.২ ওভারে ১০৪ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। ১৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে সিলেটের বাঁহাতি পেসার সোহেল তানভীর ম্যাচ সেরা হন।

শুধু টানা ম্যাচ জয়ের চ্যালেঞ্জই নয় সিলেট দলটাও টালমাটাল ছিল নানা কারণে। ডেভিড ওয়ার্নার চলে যাওয়ার পর সোহেল তানভীরকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল আবার অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে দলটি। অভিজ্ঞ অলক কাপালির হাতে নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘরের ছেলে কাপালির নেতৃত্বে প্রথম ম্যাচেই জয় পেল সিলেট। এখন টুর্নামেন্টে এই দলটি যতই ম্যাচ জিতবে ততই জমে উঠবে প্লে-অফের লড়াই।

অতীতেও বিপিএলে সাগরিকার উইকেট ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করেছে। গতকালও ব্যতিক্রম হয়নি। সিলেটের ব্যাটসম্যানরা কেউ বড় ইনিংস না খেললেও দলগত সংগ্রহ ঠিকই বড় হয়েছে সবার সম্মিলিত অবদানে। সাব্বির রহমান ছাড়া ব্যাটিং করা সবাই কম বেশি রান পেয়েছেন।  টসে হারা সিলেট ২৮ রানে দুই ওপেনার সাব্বির (১) ও লিটন দাসের উইকেট হারিয়েছিল। শুরুতেই আক্রমণ করা লিটন স্থায়ী হতে পারেননি। ১৩ বলে ২৪ রান করে মুস্তাফিজের শিকার হন লিটন। তারপর রাজশাহীর বোলারদের উপর তোপ দাগান ইংলিশ ব্যাটসম্যান জ্যাসন রয়। তৃতীয় উইকেটে আফিফ হোসেনের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি। সেকুগে প্রসন্ন’র লেগ স্পিনে খেই হারানোর আগে ২৮ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলেছেন জ্যাসন রয়।

আফিফ থেমেছেন ২৮ রান করে। নিকোলাস পুরান ১৯, নওয়াজ ১১ রান করে ফিরেন। শেষ দিকে সোহেল তানভীর ও অধিনায়ক কাপালির ব্যাটে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে সিলেট। সোহেল তানভীর ১০ বলে অপরাজিত ২৩, কাপালি অপরাজিত ১৬ রান করেন। রাজশাহীর মুস্তাফিজ দুটি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আরাফাত সানি, সেকুগে প্রসন্ন ও ডেসকাট একটি করে উইকেট নেন।

বড় রান তাড়া করার চাপটা নিতে পারেনি রাজশাহী। আগের দুই ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক লরি ইভান্স (১) ফিরেছেন ইনিংসের ষষ্ঠ বলেই। কয়েক ম্যাচ পর একাদশে ফিরলেও হাসেনি মুমিনুল হকের (৫) ব্যাট। ১৬ রানে দুই উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রাজশাহী। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় হয়নি বড় জুটি। একপ্রান্ত আগলে লড়াই করা ফজলে মাহমুদের ৪১ বলে ৫০ রানের ইনিংসে একশো পার হয় রাজশাহীর স্কোর। এছাড়া দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন দুজন ব্যাটসম্যান। জাকির হাসান ১৬, ডেসকাট ১২ রান করেন। সিলেটের সোহেল তানভীর-নওয়াজ তিনটি করে, তাসকিন ও অলক কাপালি দুটি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৮০/৬

রাজশাহী কিংস: ১৮.২ ওভারে ১০৪

ফল: সিলেট সিক্সার্স ৭৬ রানে জয়ী