৩২ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন জহির

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

এই প্রজন্মের অনেকেই জানেন না সাবেক তারকা অ্যাথলেট মিলজার হোসেনের নাম। বড়দের মুখে শুনেছেন নয়তো মাঠে আসার কারণে পরিচিত হয়েছেন। কিন্তু মিলজার হোসেন যখন দেশের দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তখন ক্রীড়াঙ্গনে আলোকিত ছিল অ্যাথলেটিকস। প্রদীপের সলতেটা জ্বলে জ্বলে শেষ প্রান্তে এলেও দেশের জাতীয় অ্যাথলেটিকস মিলজারকে আবার স্মরণ করল গতকাল ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে জহির রায়হান নতুন রেকর্ড গড়ায়।

বিকেএসপির জহির রায়হান এই ইভেন্টে মিলজার হোসেনের গড়া ৩২ বছর আগের রেকর্ড ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। মিলজার  ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে ইলেক্ট্রনিক টাইমিংয়ে স্কোর করেছিলেন ৪৭.৫৫ সেকেন্ড। কাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে ইলেক্ট্রনিক টাইমিংয়ে জহির রায়হান সময় নিয়েছেন ৪৬.৮৬ সেকেন্ড।

জহির রায়হান যখন তার রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছিলেন সেসময় মাঠেই ছিলেন মিলজার। দেখছিলেন আর মনে মনে হয়ত ভাবছিলেন নিজেদের নামের পাশে চলে আসবে ছেলেটা। মিলজার যেমনটা ভেবে ছিলেন সেটাই হয়েছে। রেকর্ডটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে জহির রায়হান যেমন আলোচনায় ঢুকে গেলেন তেমনি এতো বছর পর আবার আলোচনায় উঠে আসলেন সাবেক তারকা অ্যাথলেট মিলজার হোসেন।

মিলজার খুশি যে তার রেকর্ড টপকে নতুন প্রজন্ম আলো ছড়িয়েছে। তারপরও মিলজারের মনের মধ্যে একটা কষ্ট লুকিয়ে রয়েছে। সেটা হলো এই রেকর্ড আরো আগেই ভেঙে ফেলা উচিত ছিল।  এমনটা মনে করছেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সদস্য মিলজার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে এই রেকর্ডটি গড়েছিলাম। দেশ কিন্তু এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বও অনেক এগিয়েছে। কিন্তু আমাদের অ্যাথলেটিকস তেমনভাবে এগুতে পারেনি। তা হলে আমার এই রেকর্ড আরও আগেই ভেঙে যেত। আমি জহিরের আজকের পারফরম্যান্সটা সামনে থেকে দেখে অনেক খুশি হয়েছি। আমার এই ইভেন্টে দেশের কেউ যদি এসএ গেমস অথবা এশিয়ান গেমসে পদক পায় তবে আমিই সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।’

তিনি আরো বলেন,‘এটাকে ধরে রাখতে হবে  একটা স্বর্ণপদক পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ও যখন ২০০ মিটারে পৌছেছে আমি তখন আন্দাজ করেছি যে ওর একটা ভালো টাইমিং হবে। ৪৬.৮৬ খুব ভালো টাইমিং। এটা কিন্তু এশিয়ান স্টান্ডার্ডের টাইমিং। এটা ধরে রাখতে পারলে ও এশিয়ান গেমসের ফাইনাল খেলতে পারবে।’

কাল জহির রায়হান শুধু মিলজার হোসেনেরই রেকর্ড টপকে যাননি, একই সঙ্গে ১৯৯১ সালে মেহেদী হাসানের গড়া রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। ঢাকায় হ্যান্ডটাইমিংয়ে মেহেদী হাসান সময় নিয়েছিলেন ৪৭.২০ সেকেন্ড সময়। এক সঙ্গে দুটো রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া জহির বলছেন, ‘খেলার আগেই মনে হয়েছে আমি রেকর্ড করতে পারবো। কারণ আমার কোচ যে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং করিয়েছেন তা থেকেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম ভালো কিছু এবার সম্ভব।’

দুই বছর আগে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার পর শিক্ষা হয়েছে জহিরের। এখন অন্যদের উপদেশ দিয়ে চলেন। জহির বলেন, ‘ওই দুর্ঘটনাটা আমার জীবনে বড় একটা শিক্ষা। এরপর থেকেই নিজেকে সব সময় কন্ট্রোল করে চলি। নিজেকে সুরক্ষা করে রাখি। যেমন বাহিরে হাঁটা-চলা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। এসব থেকে দূরে থাকি।’