ফের তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে গেল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ফের তাইওয়ান প্রণালীকে যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার জাহাজদুটি প্রণালীটির উত্তর দিক ধরে অগ্রসর হয় বলে জানিয়েছে তাইওয়ান। আন্তর্জাতিক আইনের বিধি মেনেই এ যুদ্ধজাহাজগুলো তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছে বলেও দাবি তাদের।

রয়টার্স বলছে, দুই মাসের ব্যবধানে ফের তাইওয়ান প্রণালীতে মার্কিন নৌযানের উপস্থিতি বেইজিংয়ের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে তুলবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। এ ঘটনা তাইওয়ান-চীন সম্পর্ককে আরো তিক্ত করবে এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।

চীন তাইওয়ানকে তার নিজের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে। তাইপের যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক আচরণ ঠেকাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। তাইওয়ানে স্বাধীনতাপন্থি প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার প্রশাসনের সঙ্গে বেইজিংয়ের টানাপোড়েন প্রকাশ্য হয়েছে। চীন তাইওয়ানকে জোর করে দখলে নিতে পারে এ শঙ্কায় ওয়াশিংটন বারবারই তাইপেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর তিন বার কৌশলগত প্রণালীটিতে তিন দফা যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুদ্ধজাহাজ নিয়ে বেইজিং তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে এর আগেই বৃহস্পতিবার তারা তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মাঝে অবস্থিত বাশি চ্যানেলে বেশ কয়েকটি বোমারু বিমান ও উড়োজাহাজ পাঠায় বলেও অন্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবারও চীনের বোমারু বিমান ওই চ্যানেল দিয়ে উড়ে গেছে, জানিয়েছে তারা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানুয়ারির প্রথম দিকে তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণে নিতে শক্তি প্রয়োগের অধিকার বেইজিংয়ের আছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই দ্বীপরাষ্ট্রটির গণতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তাইওয়ানের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমপ্রতি এশিয়া রিঅ্যাসিউরেন্স ইনিসিয়েটিভ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। এ আইনে তাইওয়ানকে অস্ত্র দেয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে।