মুম্বাইয়ের আরে বনের গাছ কেটে মেট্রো স্টেশন নির্মাণ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৯

বলিউড নগরী মুম্বাইয়ের প্রাণ বলা যায় আরে বনকে| কিন্তু সেখানে মেট্রো স্টেশন বানানোর জন্য সম্প্রতি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার| ফলে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। মুম্বাইয়ের উত্তর-পশ্চিমের আরে বনে রয়েছে গাছ, বন্যপ্রাণী আর জলাভূমি| তিন হাজার একরের বেশি জায়গা নিয়ে গঠিত আরে বন আয়তনে এক হাজার ফুটবল স্টেডিয়ামের চেয়ে বড়| সেখানে আছে প্রায় পাঁচ লক্ষ গাছ, যার মধ্যে কয়েকটির বয়স শহরের অন্য গাছগুলোর চেয়ে বেশি| এছাড়া বনে বাস করেন ওয়ারলি আদিবাসী সমপ্রদায়ের প্রায় সাত হাজার জন|

মহানগরী এলাকার মধ্যে অবস্থিত বিশ্বের গুটিকয়েক ন্যাশনাল পার্কের একটি মুম্বইয়ের ‘সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় পার্ক’| এই পার্কের পাশেই আরে বন| এই বনের গাছপালাকে মুম্বাইয়ের ‘সবুজ ফুসফুস’ মনে করা হয়| কিন্তু আরে বনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন হুমকির মুখে| কারণ, সমপ্রতি রাজ্য সরকার বন এলাকায় একটি মেট্রো রেল ডিপো ও স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে| ফলে তিন হাজারের বেশি গাছ কাটা পড়তে পারে|

মুম্বাই মেট্রো রেল করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক এসকে গুপ্ত বলেন, ‘‘আমাদের মূল লক্ষ্য, মানুষের পরিবহন সমস্যা দূর করা আর গণপরিবহন নেটওয়ার্কের উপর চাপ একটু কমানো| এখানে মেট্রো রেল হলে ত্রিশ লক্ষ মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, তারা ভালো পরিবহন ব্যবস্থা পাবেন| এটা প্রথম বিষয়| কর্মকর্তারা বলছেন, মেট্রো ডিপো ও স্টেশন বানাতে বনের মাত্র ৩৩ হেক্টর এলাকা ব্যবহূত হবে| তবে বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, নির্মাণকাজের জন্য নিশ্চিতভাবেই বনের ইকোলজি নষ্ট হবে|

পরিবেশকর্মীরা সরকারকে মেট্রো ডিপো ও স্টেশনের জন্য সাতটি বিকল্প স্থানের প্রস্তাব দিয়েছিল, যার সবগুলোই প্রত্যাখ্যান করা হয়| ‘বনশক্তি’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা স্টালিন দয়ানন্দ বলেন, শহরের শেষ সবুজ এলাকা হচ্ছে এই বন| এখানকার গাছপালা অক্সিজেন দেয়, আর তাপমাত্রা কম রাখতে সহায়তা করে? এই বনের কারণে শহরটি এখনো বাসযোগ্য আছে|’’