আবুল কাসেম ভুঁইয়া
পাটখাতের পুনঃজাগরণে সরকার বদ্ধপরিকর। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের যেকোনো ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য পাট অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ এবং তা নবায়ন করতে হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে ও পাটের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ প্রণয়ন করা হয়। এই আইন ও বিধিমালার আওতায় ধান, চাল, গম, ভূট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজসহ ১৭টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাট উত্পাদন বৃদ্ধি বা অন্তত স্থিতিশীল রাখার জন্য মানসম্মত পাটবীজ উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন বাংলাদেশের পাট খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণের মাধ্যমে টেকসই প্রতিযোগিতা সক্ষম পাটখাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন বিধি ও নীতিমালা প্রয়োগ ইত্যাদির মাধ্যমে পাট ও পাটজাত পণ্যের উত্পাদন বৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ ব্যবহার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাট অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে পাটখাতের সোনালী ঐতিহ্যের সোনালী সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উত্পাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণের ব্যর্থতায় পর্যাপ্ত রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও ইউরোপের বাজারে প্লাষ্টিক পণ্য বর্জনের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে এই খাতের আয় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টির বেশি দেশে এই দেশের পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পাট এবং পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৬৬ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। ইপিবির সূত্রমতে জানা যায়, গত সাত মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। পাটসুতাও কুন্ডলী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ৭৫ ডলার এবং পাটজাত অন্যান্য পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ডলার। পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ মার্চ পাট দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই মেলায় বিভিন্ন পাটজাত পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের উত্পাদিত পণ্যের সমাবেশ ঘটান। মেলায় পাটের চেয়ার, ক্লাসরুম বেঞ্চ, বেড সাইড লকার, পাটের ব্যাগ, ক্যাপ, ফার্নিচার, গৃহস্থালী ব্যবহূত বেশকিছু বাহারি পণ্য। মেলায় দুই শতাধিক পাটজাত পণ্য প্রদর্শিত হয়। উন্নত দেশগুলোতে প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাটের জিনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন, পাট ব্যবহার করে ভিসকম, কম্পোজিট জুট গার্মেন্টস ও পাটপাতার চা উদ্ভাবন, জুট জিও টেক্সটাইল ব্যবহার, পাটকাঠি থেকে চারকোল বা অ্যাক্টিভেটেড কার্বন এবং জুট পলিমার হতে সোনালী ব্যাগ তৈরির কার্যক্রম সোনালী আঁশ পাটখাতের অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। পাটের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে পাটের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সমপ্রসারণ, কৃষকদের পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে, হ্রাস পাবে দারিদ্র্যতা, সমৃদ্ধ হবে সোনার বাংলা এবং বেগবান হবে সোনালী আঁশের অগ্রযাত্রা।
n লেখক:বীমা কর্মকর্তা
