বন্ধ হোক সড়ক দুর্ঘটনা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৭

২০১৩ সালে ‘অ্যাক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউট’-এর হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে অন্তত দশ হাজারের বেশি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আর এসব দুর্ঘটনায় প্রায় ৪০০০ মানুষ নিহত হয় এবং আহত হয় ৫০০০।

সড়ক দুর্ঘটনা যেমন দিন দিন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মানুষের আহত-নিহত হওয়ার সংখ্যা। ২০১৫ থেকে ২০১৮-এর জুলাই পর্যন্ত নিসচা (নিরাপদ সড়ক চাই)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এতোটাই বেড়ে গেছে যে এই তিনটি বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার লোক এবং আহত হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার লোক। যেখানে ২০১৩ সালে চার হাজার মানুষ নিহতে হয়েছে সেখানে মাত্র তিন বছরের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, কত দ্রুত গতিতে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। আর এসব সড়ক দুর্ঘটনার বেশিরভাগেরই প্রধান কারণ নিজেদের অসাবধানতা, অসচেতনতা।

বাংলাদেশে ছোট-বড় যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক এবং বিভিন্ন গতির যানবাহন একই রাস্তায় চলাচল করে। রিকশা, ঠেলাগাড়ি, স্কুটারের পাশাপাশি চলাচল করছে বড় বড় বাস ট্রাক লরি ইত্যাদি। ছোট বাহনগুলো প্রায়শই দ্রুতগতির বৃহত্ যানবাহনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া অধিকাংশ চালক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়! বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পর জানা যায় যে চালকের লাইসেন্স নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির লাইসেন্স থাকলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে না। সারা বাংলাদেশে প্রায় ৩২ লাখ গাড়ির লাইসেন্স আছে, সেক্ষেত্রে চালকের লাইসেন্স সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকরা ড্রাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে। তাছাড়া আমাদের দেশের ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম অনুন্নত হওয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। এসবের বাইরেও অনেক কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে—যেমন ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহন, জনাকীর্ণ সড়ক, যত্রতত্র পার্কিং, অনুন্নত সড়ক, বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক আইন না মানা ইত্যাদি।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো রাস্তায় যাত্রী পরিবহনে প্রতিযোগিতা। যাত্রী পরিবহনের জন্য রাস্তার যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো হয়, ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু মানুষের জীবনই কেড়ে নেয় না, এর ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অ্যাক্সিডেন্ট রিচার্স ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী ২০১৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় অর্থের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাইয়ের বাস দুর্ঘটনার কথা হয়তো এখনো সকলের মনে আছে। দুর্ঘটনায় ৪০ জন মারা যায়, তার মধ্যেই ৩৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী। হাজার হাজার শিশুর প্রাণ ঝরে পড়ছে অকালে। ছোট অথচ সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। যেমন উন্নত সড়ক নির্মাণ, ট্রাফিকব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ চালক ইত্যাদি। সড়কপথে চলাচলে চালকের যেমন সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি পথচারীকেও সচেতন থাকতে হবে। সকলের সচেতনতা বজায় রেখেই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন আরো দৃঢ় করতে হবে। বিআরটিএ-র উদ্যোগে চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি করতে হবে তাদের যথাযথ মোটিভেশনের ব্যবস্থা । চালকদের সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

চাঁদপুর