একুশে বইমেলা প্রাণের মেলা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

ইউনুস আহমেদ

প্রকাশক, লেখক, প্রচ্ছদ-শিল্পী আর প্রুফ রিডারদের ব্যস্ততা এখন লক্ষণীয়। মহা কর্মযজ্ঞ চলছে এখন বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন বইপাড়ায়। আর বাংলা একাডেমি চত্বরসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেষ সময়ের প্রস্তুতি হিসেবে চলছে এখন স্টল নির্মাণ। অমর একুশে বইমেলা এখন বাঙালির প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে।

সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকেন বইপ্রেমীরা এ মেলার জন্য। নতুন নতুন বইয়ের রূপ, রস, গন্ধে আপ্লুত হবেন তাঁরা। দীর্ঘ একমাস বইপড়ুয়া সব বয়সী পাঠক অবগাহন করবে জ্ঞানের রাজ্যে। প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় মাসব্যাপী এই বইমেলা। এই মেলার পরিধি, ব্যপ্তি, পরিসর, প্রকাশনী বই বেচা-বিক্রি—বলা যায় সবই বেড়েছে বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। মেলার পরিসর বাড়াতে বাংলা একাডেমির মূল চত্বর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তবু কথা থেকেই যায়। কিছু কিছু ব্যাপারে আরো যত্নের প্রয়োজন আছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। এ প্রসঙ্গে বলা যায়—

এক. স্টলের বিন্যাস আরো সুন্দর ও বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন, যাতে পাঠকরা খুব সহজে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতে পারেন।

দুই. মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে বসার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। এটা ভালো। তবে তা আরো বাড়ানো উচিত। সেইসঙ্গে চা, কফি বা বিভিন্ন পানীয়ের ব্যবস্থা রাখা গেলে তাতে অনেক ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

তিন. লেখকদের রয়্যালিটি প্রদানের ব্যবস্থা বইমেলায় রাখা যেতে পারে। তাতে লেখকগণ সম্মানিত বোধ করবেন এবং নতুন নতুন লেখকও উত্সাহিত হবেন। তাতে করে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

চার. মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাটি আরো সহজ ও সুন্দর করা যায়। মেলা শেষে বাংলা একাডেমি এবং প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে নতুন প্রকাশিত বইয়ের তালিকা বের করা যেতে পারে।

পাঁচ. নতুন পাঠক বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বইমেলামুখি করতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমি, প্রকাশনা সমিতি, দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ এবং সাহিত্যিকরা এগিয়ে আসতে পারেন। বইপড়া অভ্যাস গড়ে তুলতে হলে এ কাজটি খুব যত্নের সঙ্গে করতে হবে।

ছয়. বাংলা একাডেমির মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিশুপ্রহরে বইমেলায় আনার বাস্তব সম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যাভাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সাত. প্রত্যেকটা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে শক্তিশালী সম্পাদনা পরিষদ থাকতে হবে। তাঁরা বইয়ের মান কঠোরভাবে যাচাই করবেন। ভুলে ভরা বই যাতে পাঠকের কাছে না পৌঁছায় সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

বইয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠক বলতে এখনো শিশু-কিশোরদেরই বোঝানো হয়। রূপকথা, গোয়েন্দা কাহিনি, অ্যাডভেঞ্চার, সায়েন্স ফিকশন কত রকমের বই তারা পড়তে চায়। তাদের এই স্পৃহাটা ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একেকটা নতুন বই শিশু-কিশোরদের সামনে জ্ঞান রাজ্যের নতুন নতুন দরজা খুলে দেয়। একুশে বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। সার্থক হোক অমর একুশে বইমেলা ২০১৯।

ঢাকা