রাজনীতিতে শুধু পদায়ন নয়, চাই ক্ষমতায়ন

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৮

মহিলা পরিষদের দুইদিনব্যাপী জাতীয় পরিষদ সভায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘সংগঠকের গুণগতমান বৃদ্ধি করি, সংগঠনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করি’— প্রতিপাদ্য নিয়ে মহিলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ বাত্সরিক মূল্যায়ন ও পরিকল্পনার লক্ষ্যে দুইদিনব্যাপী জাতীয় সভায় বক্তারা বলেছেন, সরকার ও রাজনীতিতে নারীর পদায়ন নয়, প্রকৃত অর্থে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন দরকার। এ দেশের সকল ক্ষেত্রে মূল ধারায় নারী একটি অনস্বীকার্য শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে, এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। গতকাল শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত দুইদিনব্যাপী সভার সমাপনী দিন আজ।

অনুষ্ঠানে সভা প্রধানের বক্তব্যে পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশে উন্নীত করা এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া নারীর গৃহকাজের আর্থিক মূলায়ন না করলে দেশের জিডিপি সম্পূর্ণ হিসাবায়ন হয় না।

ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোতা স্লাইটার বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সুশাসন একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সুইডেনে সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারী আন্দোলন বড় ভূমিকা রেখেছিল, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা হতে পারে। এখন থেকে একশ’ বছর আগে সুইডেনে নারীরা ভোটাধিকার অর্জন করেছে এবং বর্তমানে দেশের সংসদে এবং মন্ত্রিপরিষদে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। এজন্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।

ইউ.এন.উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শোকো ইশিকিয়া বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিধি বৈশ্বিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে #মিটু মুভমেন্ট শুরু হয়েছে তা নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশেও এই আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজের মধ্যে সাহস ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং নারী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাগত বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়নে নারীরা পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টর ও কৃষি ক্ষেত্রে বহুমুখী দায়িত্ব পালনসহ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একযোগে নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনগত সহায়তা ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা অর্জনের ক্ষেত্রে নারী সমাজের ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে। কিন্তু নারীর জীবনমানের উন্নতির ক্ষেত্রে তা কতটুকু প্রভাব রাখছে তা ভেবে দেখার বিষয়।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারা দেশ থেকে আসা মহিলা পরিষদের নেত্রী-সংগঠকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।