প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদের সাফল্য কামনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশি ভোটারদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ইত্তেফাককে বলেন, চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ ও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে লেখা চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনে ভোট দেওয়া কোটি কোটি বাংলাদেশির প্রশংসা করছি, যারা দেশের জন্য তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আপনার দেশ ও জনগণের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আমরা গভীরভাবে আগ্রহী রয়েছি। একইসঙ্গে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিকভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আপনার সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ট্রাম্প বলেন,  বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই গণতান্ত্রিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের একটি দৃঢ় সংযোগ রয়েছে। ন্যায্য এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেবেন বলে আশা করি। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় আপনার অঙ্গীকার পূরণ করবেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহবানের আলোকে এ অঙ্গীকার রক্ষা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিরোধী ও তাদের সমর্থকদের ওপর চলমান হামলা এবং সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন জাতীয় নির্বাচনকে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনামকে কলুষিত করছে। ভিন্নমতাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের সুযোগ দমিত হলে কিছু ক্ষেত্রে তা সহিংসতায় মোড় নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। যা স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে, যার জন্য আপনার সরকার কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বিভিন্ন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।