কুমিল্লায় সাত সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদ শূন্য!

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ১৫:৪৯

শিক্ষা-সংস্কৃতির পাদপীঠখ্যাত প্রাচীন জেলা কুমিল্লার সাতটি সরকারি কলেজে দিনের পর দিন অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় কলেজগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কোনো কোনো কলেজে সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অবিলম্বে কলেজগুলোয় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া না হলে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চারটি কলেজের অন্তত আট জন শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সরকারি সাতটি কলেজের মধ্যে মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নোয়াবপুর সরকারি কলেজে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নাঙ্গলকোট উপজেলার হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজে ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া সরকারি কলেজে ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর, কুমিল্লা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ২০২০ সালের ১৬ জুলাই, কুমিল্লা সরকারি কলেজে চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে অধ্যক্ষের পদ শূন্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কলেজের বেশ কয়েক জন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, ‘অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মযজ্ঞ ব্যাহত হয়। এছাড়া কোনো কোনো কলেজে সিনিয়রিটি লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকার ফলে সিনিয়র-জুনিয়র প্রশ্নে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ, বিভাজন ও মানা-না মানার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবিলম্বে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক সোমেশ কর চৌধুরী বলেন, ‘জেলার সাতটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের শূন্য পদের তালিকা তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ঐ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়ে থাকে। এসব কলেজের অধ্যক্ষের শূন্য পদ মন্ত্রণালয় পূরণ করবে। তবে দুই বছর আগে জাতীয়করণ হওয়া কলেজগুলোয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ক্রমে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিচ্ছে।’

ইত্তেফাক/এএএম