চীনের ভ্যাকসিন কূটনীতি রুখতে উদ্যোগী ‘কোয়াড’

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ২১:৩২

 

‘কোয়াড’ জোটভুক্ত চার দেশ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ভারত ২০২২ সালের মধ্যে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের ১০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবার এই চার দেশের শীর্ষ নেতাদের ভার্চুয়াল সামিটে এই সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোয়াডের এই পদক্ষেপ মূলত এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব ঠেকানোর জন্য। এই অঞ্চলে ভ্যাকসিন কূটনীতির মাধ্যমে চীন যে সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা করছিল সেখানে ভাগ বসাতে চাইছে কোয়াডভুক্ত দেশগুলো। 

এক দশকের বেশি আগে এই চতুর্ভুজীয় প্রতিরক্ষা সংলাপ বা কোয়াড প্রতিষ্ঠিত হয়। এতদিন এ অনানুষ্ঠানিক জোটের কার্যক্রম তেমন ছিল না। কিন্তু এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় এই জোটের সক্রিয়তা বেড়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিনটি উত্পাদিত হবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া এতে অর্থায়ন করবে। প্রাথমিকভাবে ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা দক্ষিণ চীন সাগরের ইস্যুতে আলোচনা করেন। তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একইসঙ্গে এই অঞ্চলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সম্মত হয়েছেন। তারা করোনা মহামারি ও জলবায়ু সংকট নিয়েও কাজ করতে একমত হয়েছেন।

বৈঠকের পর যৌথ ইশতেহারে বলা হয়েছে, কোয়াডভুক্ত দেশগুলো জনস্বাস্থ্য ও নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। করোনার বিস্তার অব্যাহত থাকলে কেউ নিরাপদ থাকবে না। তাই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভ্যাকসিনের সমতাভিত্তিক প্রাপ্তি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করা হবে। এ লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উত্পাদন এবং বিতরণ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ভ্যাকসিন উত্পাদনে ৬০ কোটি ডলার দেবে। যাতে করে ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্ভব হয়। এছাড়া বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি নিশ্চিতে দেশগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং কোভ্যাক্স এর সঙ্গে কাজ করবে।

চীনা বিষয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ড্রিউ থমসনের মতে, এই ঘোষণায় বিশ্বে ভ্যাকসিন সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে ঐ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সহায়তার জন্য এটি একটি ভালো কৌশল। ওসব দেশে নিরাপদ, পরীক্ষিত ও কার্যকর ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পেছনে ‘মিশ্র স্বার্থ’ রয়েছে।

চীন তাদের উত্পাদিত ভ্যাকসিন ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে প্রদান করেছে। তবে তাদের ভ্যাকসিন কতটুকু কার্যকর সে ব্যাপারে এখনো কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেনি। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহার হামেইরির মতে, কোয়াডের উদ্দেশ্য হলো :দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চীনের ভ্যাকসিন কূটনীতির প্রচেষ্টা আটকানো।