জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়ন হবেই: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ০৮:১১

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, এলাকার নেতৃত্ব ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন সাধিত হয়। 

সকল প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নমনস্ক করা গেলে জীবনমানের পরিবর্তন হবেই। তিনি বলেন, ঐক্যের স্বার্থে নেতাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি অতীত ও বর্তমান কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চড়া মাশুলও দিতে হয়।

গতকাল রবিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় জেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আরো বলেন, ৫০ বছরে দেশের আরো পরিবর্তন হতে পারত। এ সময়কালে দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের পরিত্রাণ-প্রতিবিধান মানুষ পায়নি। যেমন পায়নি স্বাধীন দেশ উপযোগী উন্নয়নের প্রকৃত স্বাদ। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বিদ্যুত্ ইত্যাদি অবকাঠামোগত পরিবর্তনের সদ্ব্যবহার করে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা লাভ তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে উন্নয়নের সূচক।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা ৩৬ বছর ধরে অব্যাহতভাবে দক্ষিণাঞ্চলকে অবহেলিত-পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে একটি উন্নয়নমুখী জনপদে রূপ দিতে পারছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের অতীতকাল থেকে চলমান উন্নয়ন কাজের কথা জানেন এবং বলেন। তিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন তখন দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন অনেক গতিশীল হয়। শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বলেই এলাকার জনগণ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে। কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-ইন্দুরকানীতে আমরা সকলে মিলে কাজ করি বলে এখানে উন্নয়ন কাজও বেশি বেশি করে হয়। তেমনি এখানকার মানুষও সুখে-শান্তিতে থাকে। আল্লাহর হুকুম তথা এলাকার মানুষের মধ্যে একতা ও উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা থাকলে মানুষের কল্যাণে ঈমানের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়।

জেপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমরা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ইত্যাদি অর্জন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে পাকিস্তান আমলে লড়াই করেছিলাম। সে লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

কাউখালী উপজেলা জেপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু। এ সময় মঞ্চে ছিলেন ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান টুলু, কাউখালী উপজেলা জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান খান নান্নু ও নেপাল চন্দ্র দে, সমাজসেবী আব্দুল লতিফ খসরু, জেপি নেতা শেখ লিটন, জাতীয় মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী অধ্যক্ষ আফরোজা সনু, যুবসংহতির সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান মনু, জাতীয় ছাত্রসমাজের সভাপতি তারিকুল ইসলাম কাইয়ুম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কাউখালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মো. নূরুল আমীন ও আমরাজুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ফিরোজ আলমকে নির্বাচনে মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তর করেন। শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নাংগুলি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন। উপজেলা জেপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মোনাজাতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জেপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

 

ইত্তেফাক/এনএ