ফয়জুল আল আমীন
পুদিনা পাতা প্রাচীনকাল থেকেই জনপ্রিয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। পুদিনা পাতার মূল, পাতা, কান্ডসহ সবই ভেষজগুণে পরিপূর্ণ। পুদিনা পাতায় ৪০-৯০% মেনথল তেল পাওয়া যায়। যা বিভিন্ন পারফিউম, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এবার তবে জেনে নেওয়া যাক পুদিনা পাতার কিছু ভেষজ গুণাগুণ—
ব্যথা নাশে :পুদিনা পাতার রস তাত্ক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। এর রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথাব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। মাথাব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করলে উপকার মিলে। এছাড়াও মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে নাকের কাছে টাটকা পুদিনা পাতা ধরলে উপকার পাওয়া যাবে। আর জয়েন্টে ব্যথা হলে পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে হবে।
পেট ফাঁপলে :পেট ফাঁপলে বা পেটে বায়ু জমা হলে নানা রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে পুদিনার শরবত (পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবণ ও কাগজী লেবুর ৮-১০ ফোটা রস হাল্কা গরম পানিতে মিশিয়ে নিয়ে।) দিনে ২-৩ বার করে টানা কয়েকদিন খেলে পেটে বায়ু জমা বন্ধ হবে।
ত্বক মসৃণ করতে :গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শসার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক মসৃণ হয়। বিশেষ করে ব্রণ দূর করতে ও ত্বকের তেলতেলে ভাব কমাতে তাজা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগাতে হবে। এভাবে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে ব্রণের দাগ দূর করতে প্রতিদিন রাতে পুদিনা পাতার রস লাগাতে হবে এবং সম্ভব হলে সারারাত রাখতে হবে। এভাবে অন্তত মাসখানেক ব্যবহার করলে ব্রণের দাগ সেরে যাবে।
অ্যাজমায় :পুদিনা পাতার রস শ্বাস-প্রশ্বাসের নালী খুলে দেওয়ার কাজে সহায়তা করে। কেউ অ্যাজমা অথবা কাশির সমস্যায় ভোগলে এ সমস্যার তাত্ক্ষণিক উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে পুদিনা পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানির ভাপ নিতে হবে।
বমি হলে :বমি হলে পুদিনার শরবতের সঙ্গে এক চা চামচ তেঁতুল মাড় ও সামান্য চিনি মিশিয়ে ২-৩ বার করে টানা ৩-৪ দিন খেতে হবে।
শিশুদের অতিসারে :অনেক সময় দেখা যায় অল্প আম সংযুক্ত দাস্ত এবং সেসঙ্গে পেট ফাঁপা, হিক্কা বমি বমি ভাব— শিশু কিছুই খেতে চায় না। এসব ক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস ৮/১০ ফোটা সামান্য চিনি ও লবণ সহযোগে এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর কয়েকবার খাওয়াতে হবে। বয়স অনুপাতে মাত্রা কম-বেশি করে নিতে হবে।
হেঁচকি উঠলে :এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার সঙ্গে গোলমরিচ পিষে ছেকে নিয়ে রসটুকু পান করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই হেঁচকি বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে : পুদিনা পাতায় থাকা মনোটারপিন স্তন, লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এ পাতা নিয়মিত খেলে ফুসফুস, কোলন এবং ত্বকের ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
