তথ্য গোপনের অভিযোগে মমতার প্রার্থীতা বাতিলের দাবি!

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ২২:২৩

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আজ সোমবার (১৫ মার্চ) ছিল মনোনয়ন পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সীমার শেষ দিন। এদিন সবকিছু যাচাই-বাচাই শেষে তার মনোনয়ন গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

তার আগে আজ মমতার বিরুদ্ধে হলনামায় ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানায় বিজেপি। সোমবার এ নিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ নিয়ে যান নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ পাল এবং দলটির আইনজীবী পরিষদের সদস্যরা।

বিজেপির দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায় তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নিজের সম্পর্কে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৬টি ফৌজদারি মামলা আছে। কিন্তু তিনি সেই তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি।

অবশ্য বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং নন্দীগ্রামের হয়ে লড়াইয়ের জন্য মমতার মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি যেহেতু অভিযোগ দায়ের করেছে তখন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চয়ই মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিশ দেয়া হবে। তখনই এর উচিত জবাব দেবেন নেত্রী। তাছাড়া কে কোথায় মামলা দায়ের করলো সে সম্পর্কে তো আমাদের কাছে তথ্য নেই। হলনামায় উল্লেখ করবো কীভাবে?

ভোটে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়ে জামানত হারাতে পারেন শুভেন্দু। সেই শঙ্কা থেকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ আনছেন, দাবি করেন তিনি।

এদিকে, কলকাতা ভিত্তিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, অভিযোগে যে ৬টি মামলার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে একটি সিবিআইয়ের দায়ের করা। সেটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রী নয়, বরং এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী। যা নিয়ে উল্টো কটাক্ষের মুখে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে থাকা প্রধান দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কথার লড়াইয়ে একে অপরকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ। আগামী ১ এপ্রিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর আসন নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/টিএ