শাবানেই হোক রমজানের প্রস্তুতি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ২০:৩৮

আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের জন্য কিছু মাস পুরস্কার ও মহিমান্বিত করেছেন। চান্দ্রমাসের শাবান মাস তার মধ্যে একটি। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাবান মাসকে তার নিজের মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল বরাতের মতো অত্যন্ত বরকতময় রজনি, যাকে বলা হয় মাহে রমজানের আগমনী বার্তা। শাবান মাস মূলত পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস। রাসুলুল্লাহ (স) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি নফল রোজা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নামাজ আদায় করে মাহে রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা) বলেছেন, ‘নবি করিম (স) কখনো নফল রোজা রাখতে শুরু করলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি বিরতি দেবেন না। আর রোজার বিরতি দিলে আমরা বলতাম যে, তিনি মনে হয় এখন আর নফল রোজা রাখবেন না। আমি রসুলুল্লাহ (স)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করতে দেখিনি। কিন্তু শাবান মাসে তিনি বেশি নফল রোজা রেখেছেন।’ (মুসলিম) অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে রসুলুল্লাহ (স) এত অধিক হারে নফল রোজা আদায় করতেন না।’ (বুখারি)

হযরত আনাস (রা) বলেছেন, নবি করিম (স)-কে জিগ্যেস করা হলো, ‘আপনার কাছে মাহে রমজানের পর কোন মাসের রোজা উত্তম?’ তিনি বললেন, ‘রমজান মাসের সম্মান প্রদর্শনকল্পে শাবানের রোজা উত্তম।’ (তিরমিযি)। মাহে রমজানে দীর্ঘ ৩০টি রোজা পালনের কঠিন কর্মসাধনা সহজ ও নির্বিঘ্নে আদায় করার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শাবান মাসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘রসুলুল্লাহ (স)-এর প্রিয় মাসের একটি হলো শাবান। এ মাসে নফল রোজা আদায় করেই তিনি মাহে রমজানের রোজা পালন করতেন।’(আবু দাউদ)। যারা শাবান মাসে নফল রোজা রাখতে চান, তাদের মধ্যভাগেই শেষ করে ফেলা উচিত। শাবান মাসের অর্ধেকের পর বেশি রোজা আর না রাখাই ভালো। হযরত উসামা বিন যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবি করিম (স)-কে জিগ্যেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল! আপনাকে শাবান মাসে অন্যান্য মাস অপেক্ষা বেশি নফল রোজা রাখতে দেখি। এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ (স) বললেন, রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এ মাস অনেকেই খেয়াল করে না। এটি এমন একটি মাস, যে মাসে মানুষের সব কর্মকাণ্ড আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়। তাই আমি চাই এমন সময়ে আমার কর্মকাণ্ডের খতিয়ান আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হোক, যখন আমি রোজা অবস্থায় রয়েছি।’ (নাসাঈ ও আবু দাউদ)

হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) বর্ণিত একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রজনিতে তার সৃষ্টির (বান্দাদের) প্রতি দৃষ্টি দেন এবং সবাইকে ক্ষমা করে দেন। তবে তারা ব্যতীত, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করে এবং অপরকে ক্ষতিসাধনের বাসনা পোষণ করে।’ (ইবনে হিব্বান)

শাবান মাসে ভারসাম্যপূর্ণ নেক আমলের তাগিদ দিয়ে রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল করবে। কেননা, আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল তা-ই, যা সর্বদা পালন করা হয়।’ (বুখারি)। তাই বলা হয়, ‘রজব মাসে শস্য বপন করা হয়, শাবান মাসে ফসল কাটা হয় এবং রমজান মাসে ফসল ঘরে তোলা হয়।’ রসুলুল্লাহ (স)-এর কাছে শাবান মাসের মর্যাদা এতই বেশি যে, যখন তিনি এ মাসে উপনীত হতেন, তখন মাহে রমজানকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে অধিক হারে এই বলে প্রার্থনা করতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসের বিশেষ বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ)। মহানবি (স)-এর এই দোয়ার মাধ্যমে সবার কাছে শাবান মাসের ফজিলত প্রতীয়মান হয়।

lলেখক :শিক্ষার্থী, দাওরায়ে হাদিস, দারুস-সুন্নাহ মাদ্রাসা, টাঙ্গাইল