তাযকিয়ায়ে নফস এবং যিকিরের গুরুত্ব

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ২০:৩৮

তাসাউফ জগতের সাধনার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তাযকিয়ায়ে নফস। তাযকিয়ায়ে নফসের মূল হচ্ছে আত্মাকে সব দিক থেকে বিমুখ করে আল্লাহমুখী করে দেওয়া আর সেজন্য একজন আধ্যাত্মিক চিকিত্সক কিংবা তাসাউফ জগতের শাইখ দরকার, যিনি রিলিজিয়াস সাইকোলজিস্ট হিসেবে আত্মার চিকিত্সা দেবেন। কারো কারো আত্মা এমন কঠোর হয়ে যায় যে, সে আল্লাহকে ডাকতেই পারে না! সেই লোককে যখন ১০ জন যিকিরকারির সঙ্গে বসিয়ে দেওয়া হয়, তখন সবার তালে তালে তার মধ্যেও আল্লাহকে ডাকার অভ্যাস গড়ে ওঠে। মনে করুন এক ব্যক্তি জীবনে কখনো গজল পরিবেশন করেনি। তাকে যদি বড় একটি গজলের কিংবা ইসলামি সংগীতের আসরে সবার সঙ্গে বসিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সবার সঙ্গে ঠোঁট নাড়তে নাড়তে তার মধ্যেও গজল পরিবেশন করার প্রবণতা সৃষ্টি হবে। ঠিক তদ্রূপ, যে ব্যক্তি চিরজীবন নামাজ না পড়ার কারণে অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে এবং অন্তর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে, আল্লাহর যিকিরের স্বাদবোধ তার থেকে হারিয়ে গেছে, সেই লোকের অন্তরাত্মা বিশুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে অন্তরে ধাক্কা লাগে এমন কিছু শব্দ, যা সে জোরে জোরে নিজ মুখে বলবে। প্রয়োজনে ১০-২০ জনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলবে আর মনের গহিনে ধাক্কা লাগার মতো শব্দ হচ্ছে আল্লাহ, আল্লাহ...। তাই কেউ যদি আল্লাহকে ডাকার অভ্যাস গঠনের জন্য সম্মিলিত যিকির করে এবং যিকির করা শিখে নেয়, এটা কতই না উত্তম।

উদাহরণস্বরূপ, ছোট ছেলেমেয়েরা যখন নুরানি মাদ্রাসায় কিংবা মক্তবে পড়ে, তখন তাদের পড়ার অভ্যাস গঠনের জন্য হুযুরগণ তাদের প্রতিটি শব্দ জোরে জোরে পড়িয়ে থাকেন। এতে করে বাচ্চাদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। ঠিক তদ্রূপ যারা আল্লাহর যিকির করবে, তাদের আগে যিকির শিখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক-দুই বার যিকিরের হালকা করে অন্তরে ধাক্কা লাগিয়ে যিকির করবে, এতে করে যিকিরের প্রতি ভালোবাসা বাড়বে আর রাতদিন প্রতিটি মুহূর্তে যিকির করতে থাকবে। তাহলে যখন সম্মিলিত যিকির করা হয়, এটা হবে যিকির প্রশিক্ষণ মজলিশ আর এই মজলিশ থেকে যিকির শিখতে থাকবে। সম্মিলিতভাবে কোরান শেখার মজলিশ বা আসরও আমরা করে থাকি। আল্লাহর রাসুল (স) বলেন, সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে কোরআন তিলাওয়াত। সম্মিলিতভাবে কোরআন তিলাওয়াত করলে কোরআন শিক্ষা সহজ ও দ্রুততর হয়। তাযকিয়ায়ে নফসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

lলেখক :ভাইস প্রিন্সিপ্যাল, জামিয়া আজহারীয়া, আমীনবাজার, ঢাকা

মহাপরিচালক, সেন্টার ফর সাইকোট্রমাটোলজি অ্যান্ড রিসার্চ