রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
রৌমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড় চরাঞ্চলে তেলজাতীয় ফসল চিনার ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চর শৌলমারী, বন্দবেড় ও যাদুরচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে চরাঞ্চলে ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর জমিতে চিনা চাষ হয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে জানা গেছে, চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের উত্স হচ্ছে ফসল চাষ ও মাছ ধরা। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও ভিটেমাটি হারিয়ে বালুচরে ঘর বেঁধে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গ্রামবাসী। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে চরাঞ্চলের কৃষকরা চিনা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চিনার চাষ ভালো হয়েছে। উপজেলার কুটিরচর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ও সেকান্দার আলী বলেন, এক বিঘা জায়গায় চিনার চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে ফলন হয়েছে ১৮ মণ। বাজারে এক মণ চিনার দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে। এক বিঘার চিনা ফসল বিক্রি করে লাভ হবে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ফলুয়ারচর গ্রামের কৃষক রিয়াজুল হক জানান, চরের বালু মিশ্রিত জমিতে অন্য ফসলের তুলনায় চিনার চাষ ভালো হয়। চিনা চাষে খরচ কম, সামান্য সেচ দিলে ফলন আরো বেশি ভালো হয়। রাসায়নিক সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে পাওয়া যায় আশাতীত ফলন। চিনা চাষে পরিশ্রম কম ও লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় চিনা চাষ চরাঞ্চলে দিনদিন বাড়ছে। এবার চরাঞ্চলে ৩০০ বিঘা জমিতে চিনার আবাদ হয়েছে বলে জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে চরাঞ্চলের বালুমাটি চিনা চাষের জন্য উপযোগী। বাণিজ্যিকভাবে চিনা চাষের উদ্যোগ নিলে বদলে যেতে পারে চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকের ভাগ্য। চিনা তেলজাতীয় একটি পুষ্টিমানসমৃদ্ধ কৃষিপণ্য। চরাঞ্চলে চিনাসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
