তুরস্কে কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ানের মুখপাত্র। কুর্দি-জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে এইচডিপির তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটকও করা হয়েছে। এদিকে এইচডিপিকে নিষিদ্ধ করতে সাংবিধানিক আদালতে মামলা চলছে। সব মিলে শাসক দলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে তারা।
শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কুর্দি-জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে ১০ জনকে আটক করেছে সে দেশের পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে এইচডিপির ঊর্ধ্বতন তিন জেলা কর্মকর্তা রয়েছেন। এইচডিপিকে নিষিদ্ধ করতে আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরুর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল এইচডিপি সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে ধরপাকড়ের শিকার হয়ে আসছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানিয়ে বুধবার (১৭ মার্চ) সাংবিধানিক আদালতে মামলা দায়ের করেন এক তুর্কি প্রসিকিউটর।
মামলাকে ‘রাজনৈতিক অভ্যুত্থান’ বলে উল্লেখ করেছে এইচডিপি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এ মামলার সমালোচনা করেছে। এতে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দাবি করেছেন, এইচডিপির সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সম্পর্ক আছে। এর মধ্যেই শুক্রবার বড় ধরনের কুর্দিবিরোধী ধরপাকড় অভিযান চালায় তুরস্কের পুলিশ। চারটি জেলায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এদিনের অভিযানে ইস্তানবুলের কাগিথানে জেলার শীর্ষ দুই এইচডিপি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দলটির বেসিকতাস জেলা প্রধানও আটক হয়েছেন। মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে বলে জানিয়েছে আনাদোলু।
এদিকে তুরস্কের মানবাধিকার সংগঠন (আইএইচডি) জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তাদের চেয়ারম্যান ওজতুর্ক তুর্কদোগানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আইনজীবীরা।
