মাহবুব শরীফ
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সম্প্রতি একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম এর মধ্যে একটি যোগযোগ স্থাপনের সুবিধা তৈরি হবে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত অ্যাপের ব্যবহারকারীরা পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করতে পারবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর ভেতরে বিশেষ অবকাঠামো তৈরি করছে, যাতে ফেসবুকের অধীনে থাকা সব সেবা এক ইকোসিস্টেমের মধ্যে আসতে পারে। এসব অ্যাপে অ্যান্ড টু অ্যান্ড এনক্রিপশন দেওয়ার কথা ভাবছে ফেসবুক। এতে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। তবে এসব সিদ্ধান্ত কবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি।
নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত সংবাদে আরও বলা হয়, অ্যাপগুলো একত্রিত করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান মার্ক জাকারবার্গ ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছেন। তবে, বড় ধরনের এই একত্রীকরণ প্রক্রিয়ার অ্যান্টিট্রাস্ট উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ফেইসবুকের অ্যাপগুলোর মাসিক সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় আড়াইশ’ কোটি, যা মোবাইল ট্রাফিকের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আগের বছর অক্টোবরে জাকারবার্গ বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলো অ্যাপলের আইমেসেজ সেবা।
এ বিষয়ে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে সেরা ম্যাসেজিং অভিজ্ঞতা দিতে চাই। দ্রুত, সহজ, নির্ভরযোগ্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের সেরা ম্যাসেজিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ম্যাসেজিং সেবাগুলো থেকে আরও বাড়তি কিছু দেওয়ার জন্য অ্যান্ড টু অ্যান্ড প্রেসক্রিপশন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের কাছে সহজে পৌঁছানোর বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে। এটা কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হচ্ছে।’
ম্যাসেজিং অ্যাপগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিলে ব্যবহারকারীদের আরও বেশি এনগেজ্ড রাখা যাবে বলে মনে করছে ফেসবুক। এতে সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটিতে অনেকেই যুক্ত হবেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনদাতা ব্যক্তিদের টেনে আনতেও ফেসবুকের জন্য সুবিধা হবে।
মোবাইল মেসেজিংয়ে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখায় এর আগে ফেইসবুকের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নীতি নির্ধারকরা। সেসময় জাকারবার্গ বলেন, ‘গ্রাহকের কাছে বাছাই করার সুযোগ রয়েছে কারণ, সাধারণ মার্কিনিরা আটটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাপ ব্যবহার করেন।’
ওই আটটির মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপসহ তিনটি নিয়ন্ত্রণ করে ফেইসবুক। এখন সেগুলো একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০১২ সালে ইনস্টাগ্রাম কিনে ফেইসবুক। আর ২০১৪ সালে কেনা হয় হোয়াটসঅ্যাপ। ফেইসবুকের মালিকানায় স্বাধীনভাবে চলার কথা ছিল অ্যাপগুলো। কিন্তু ক্ষমতা ও বিজ্ঞাপনী কৌশল নিয়ে বিতর্কে গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠাতারা।
সূত্র : সিএনবিসি
