ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ০৮:৪০

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী-২০২১ উদযাপন করলো ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবস দুটি পালন করে তারা।

এ দিন সকালে দূতাবাসে উপস্থিত সকলের সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি'-এর সুরের মূর্ছনায় রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।  পরে দূতাবাসের মিলনায়তনে আগত অতিথিদের অডিও-ভিজুয়াল প্রযুক্তির সহায়তায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত একটি 'ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র' প্রদর্শন করা হয় যেখানে বঙ্গবন্ধুর শৈশব কৈশোরের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে আপোষহীন নেতৃত্বের বজ্রকঠিন প্রত্যয়ের প্রতিফলনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তাঁর অবদান বিধৃত হয়েছে। এরপর জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করে শোনানো হয় ও উপস্থিত কম্যুনিটি নেতৃবৃন্দের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এরপর বাংলাদেশী শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, কুইজ, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ স্কুল মাস্কাটের শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীগণ এতে অংশগ্রহণ করে। 'বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ' শিরোনামে চিত্রাঙ্কন, 'বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ' শিরোনামে কুইজ ও 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' শিরোনামে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুকিশোরদের মাঝে পুরস্কার এর পাশাপাশি 'মুজিব' গ্রাফিক্স নভেল উপহার দেওয়া হয়।  

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আজকের শিশু-কিশোরদের কাছে বাঙ্গালী জাতি, বাংলাদেশ এবং আমাদের পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার কথা এবং এর সঠিক ইতিহাসে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং এর পূর্বাপর 'সোনার বাংলা' গঠনের স্বপ্ন আমাদের তুলে ধরতে হবে। এর পরিক্রমায় 'জাতীয় শিশু দিবস' এর গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে যে শিশুটি পৃথিবীর বুকে এসেছিলেন কালের পরিক্রমায় অবিচল নেতৃত্ব, জীবনভর আত্মত্যাগ, বজ্রকঠিন প্রত্যয়, আর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ও 'কারাগারের রোজনামচা' এর প্রত্যেক পাতায় তার সে সংগ্রামী জীবনের আলেখ্য ফুটে উঠেছে। আমাদের দায়িত্ব হলো আমাদের উত্তর প্রজন্মের কাছে সেগুলো তুলে ধরা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপে বঙ্গবন্ধুর 'সোনার বাংলা' গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে একাত্ম হয়ে কাজ করার শপথ নেওয়া।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি