ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সূর্যমুখীর হাসিতে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ১৪:৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সূর্যমুখীর হাসিতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি বছর জেলায় দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষকরা। গত বছর কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এবছর ৭গুন বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

ইতিমধ্যেই সূর্যমুখী গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সৌন্দর্য পিয়াসুরা দলবেঁধে পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন সূর্যমুখী বাগানে। অনেকেই বাগানে ঢুকে ছবি তুলছেন। তরুণ-তরুণীরা তুলছেন সেলফি। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করা হচ্ছে। এ বছর পৌর এলাকাসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টর (৬০০বিঘা) জমিতে ছয়শত কৃষক তাদের জমিতে এসডিআর-২৭৫ ও হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

গত বছর মাত্র ৮০জন কৃষক তাদের ৮০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন। গত বছরের তুলনায় এবছর ৭গুন বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। কৃষকদের জমি পরিদর্শনসহ কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সবধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

পৌর এলাকার ভাদুঘর, সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই, রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, মজলিশপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর, বুধল ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায় জমিতে হাসছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখীর হাসি উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন বিকেলে সূর্যমুখী বাগানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সৌন্দর্য পিয়াসুরা। চারিদিকে হলুদের সমাহার। সূর্যমুখী ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণ, প্রতিটি বাগানেই গুন গুন করে উড়ছে মৌমাছির দল।

সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের খেওয়াই গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মো. আকবর হোসেন জানান, আগে তিনি তার জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করতেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত বছর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে ১৪ বিঘা জমিতে  সূর্যমুখীর চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন। এ বছর তিনি ১৮ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই গাছে ফুল ধরেছে।

তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবছরও সূর্যমুখীর ফলন ভালো হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিদিন সৌন্দর্য পিয়াসুরা বাগান দেখতে এসে বাগানে ঢুকে গাছ ও ফুলের ক্ষতি করছে। অনেকেই গাছ থেকে ভেঙ্গে ফুল নিয়ে যায়। তিনি তাদেরকে বারণও করতে পারছেন না।

পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের শাহানুর ভূঁইয়া বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত বছর তিনি তার ৪ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছিলেন। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এ বছর ৭বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। ইতিমধ্যেই গাছে ফুল ধরেছে। তিনি বলেন, গাছে ফুল ধরার পর থেকেই বাগানে পাহারাদার রাখতে হয়েছে। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীসহ সব ধরনের লোকজন আসে বাগান দেখতে।

ভাদুঘর সূর্যমুখী বাগান দেখতে যাওয়া শাম্মি আক্তার জানান, ফেসবুকে সূর্যমুখীর বাগান দেখে সপরিবারে বাগান দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, বাগান দেখে খুবই ভালো লেগেছে। আগে বাগানে এক দুইটা সূর্যমুখীর গাছ দেখলেও এই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা বাগান দেখলাম।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মুন্সী তোফায়েল হোসেন বলেন, মুজিববর্ষ  উপলক্ষে গত বছর  প্রথমবারের মতো সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ৮০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছিলো। বাম্পার ফলন হওয়ায় চলতি বছর কৃষকরা নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হয়ে সূর্যমুখীর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ বছর সদর উপজেলায় ৬৫ হেক্টর (৬০০ বিঘা) জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চাষের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা সূর্যমুখী ফুল থেকে বীজ তুলতে পারেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি কৃষকরা ৯/১০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করা  হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বাজার থেকে যে সাধারণ সয়াবিন তেল কিনি তাতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে সয়াবিন তেল পাওয়া যাবে তাতে কোন ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবছর দ্বিতীয় বারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদেরকে সব ধরনের সহায়তা করেছি।

তিনি আরও বলেন, সূর্যমুখী চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আশাকরি ফলন খুবই ভালো হবে।

ইত্তেফাক/এমআর