মধ্যভাদুর মাঠে পানি সংকটে সহস্রাধিক একর জমি অনাবাদি!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০৮

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের মধ্যভাদুর মাঠে তীব্র পানি সংকটের কারণে বোরো মৌসুমে সহস্রাধিক একর জমি দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে আছে। মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের পুরানো খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও সেচ সুবিধা না পাওয়ায় আমন চাষের পর এসব জমি খালি পড়ে থাকে। খালটি পুনঃখনন করে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করলে খাল সংলগ্ন প্রায় হাজার একর জমিতে মৌসুমে ৫ শত মেট্রিক টন চাল বেশি উত্পাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

জানা যায়, মধ্য ও পশ্চিম ভাদুর এবং উত্তরগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদের জন্য একমাত্র অবলম্বন মধ্য ভাদুর নামে পরিচিত মাঠটি। কিন্তু মাঠের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা খালটি এখন ভরাট হয়ে ও দখলে সরু হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও খালের মাটি জমে খালের তলা উচুঁ হয়ে গেছে। তাই পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা আবার বোরো মৌসুমে দেখা দেয় পানির তীব্র সংকট।

স্থানীয় ৭২ বছর বয়সী প্রবীণ কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ শাসন আমলে খালটি খনন করা হয়। এরপর আর খালটি পূনঃখনন করা হয়নি। ৩৫/৪০ বছর আগেও এ খালটি স্রোতস্বিনী ছিলো। তখন কৃষকরা এ খালের পানি দিয়ে সেচ দিতো। এতে মাঠজুড়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হতো। এখন খালটি ভরাট হয়ে শুকিয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে ফসলের মাঠে কোন কৃষিপণ্য উত্পাদন করা যায় না।

আবুল কাশেম, ছেরাজুল হক, জহির মিয়া, মাসুদ আলম, দেলোয়ার হোসেনসহ এ এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, এ মাঠে উত্পাদিত ফসলের উপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার। কিন্তু খালটি পূনঃখনন না করায়, সেচের অভাবে প্রতি বছর বোরো চাষ করতে পারছে না। এতে তাদের পরিবার পরিজন সারা বছর খুব কষ্টে কাটাতে হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বাবলু বলেন, খালটি পূনঃখনন করে পানি নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করার বিষয়টি এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এখনো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। খালটি পুনঃখনন হলে আবার হাজার হাজার একর জমি সোনার ফসলে ভরে উঠবে। দূর হবে জলাবদ্ধতা। প্রাকৃতিকভাবে বাড়বে মাছ। এলাকায় ফিরে আসবে জীববৈচিত্র্য।

রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভির আহম্মদ সরকার বলেন, মধ্য ভাদুর মাঠের সহস্রাধিক একর জমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। ভূট্টাচাষসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের ধান চাষের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মাঠের মধ্যখান দিয়ে যাওয়া খালটি পূনঃখনন করে স্লুইসগেট নির্মাণ করলে এ মাঠ থেকে ৫ শত মেট্রিক টন চাল বেশি উত্পাদন সম্ভব। এই উপজেলার কৃষিতে ভূমিকা রাখে এমন খালসমূহ পূনঃখনন ও স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়া হয়েছে।