দালালদের দৌরাত্ম্য জিম্মি রোগী

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২১:৪৫

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে একটি দালাল চক্র দীর্ঘদিন সক্রিয়। এসব দালালের হাতে জিম্মি রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালেরা প্রতিনিয়ত এই হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে অন্য ক্লিনিকে ভর্তি করানোর প্ররোচনা দেয় রোগীর স্বজনদের।

গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে রোগী ও স্বজনেরা যাওয়ামাত্রই তত্পরতা শুরু হয়ে যায় দালদের। রোগীর স্বজনদের পেছনে ঘুরতে থাকেন তারা। তারা কী রোগ, কী করবেন তা জানার পরপরই সুযোগ বুঝে স্বজনদের বাগিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। স্বজনদের বলেন, ‘ক্লিনিকে ভালো চিকিত্সা হবে। স্যার ভালো করে দেখবেন। এখানে চিকিত্সা হয় না। সিমু আক্তার নামের চরপাতা গ্রামের একজন নারী জানান, তিনি টিকিট কেটে অসুস্থ দুই শিশুকে নিয়ে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন ডাক্তারের অপেক্ষায়। তার সঙ্গে চরমোহনা গ্রামের বিথি আক্তার নামের আরেক নারীও ডাক্তারের অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় দুজন ব্যক্তি এসে রোগী সম্পর্কে জানার পর তাকে বারবার অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের দুজন চিকিত্সক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী মহল দালাল চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। মাঝেমধ্যে চিকিত্সকেরা দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তাদের রোষানলে পড়তে হয়। মূলত এসব দালালকে নিযুক্ত করে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোর কর্তৃপক্ষ। তাদের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, ‘উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে দালালবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেলে এমন অবস্থা হতো না। নার্সদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেন তারা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করেন। হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির লোকদের নিষেধ করা হয়েছে।’