হতাশাই রিয়াদের একমাত্র সম্বল

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪০

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

সিলেটের কাছে হারের পর চলতি বিপিএলে আর কোনো আশাই রইল না খুলনার। সামনের দুই ম্যাচ জিতলেও তা হবে স্রেফ সান্ত্বনার। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। কাগজে-কলমে অনেক এগিয়ে ছিল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের টিম খুলনা। বেশ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরই দলে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে এসে খুলনা অধিনায়ক রিয়াদ শোনালেন হতাশার কথা। বিপরীতে সিলেটের বোলার নাবি সামাদ উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গেলেন।

গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেটের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে হতাশার কথাই জানালেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘শুধু আমি না, খুলনার পুরো ড্রেসিং রুমই হতাশ। কিছু কিছু জায়গায় ছোট ছোট ভুল করেছি যার মাসুল আমাদের দিতে হয়েছে। ড্রেসিং রুমের হতাশাটা খুব স্বাভাবিক।’  

এই অবস্থায় টিম অথবা নিজেকে মোটিভেট করা কঠিন বলে মনে করেন রিয়াদ। বলেন, ‘টিম নিয়ে অনেকেরই প্রত্যাশা আছে। কিন্তু সেটা কোনোভাবেই পূরণ হচ্ছে না। যেহেতু আমাদের আর কোনো চান্স নেই তাই ব্যাপারটা খুবই হতাশার। এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। একেবারে শুরু থেকে প্রথম ৫/৬ ম্যাচে কয়েকটা ক্লোজ ম্যাচ আমরা জিততে পারতাম। তাহলে আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটাও অন্যরকম হতো। দুর্ভাগ্যক্রমে ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং কোনো সাইডেই কোনো কিছু হচ্ছে না। নিজেরা কথা বলে সমস্যা খোঁজার চেষ্টা করেছি। ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে। সবাইকে মোটামুটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

খুলনার অধিনায়ক রিয়াদ যখন হতাশায় কাতর তখন নিজের দল নিয়ে উচ্ছ্বসিত সিলেটের বাম হাতি স্পিনার নাবিল সামাদ। চট্টগ্রামে টানা দুই জয়ের পর দলকে নিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন তিনি। বলেন, ‘ম্যাচ জিততে থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। আমাদের টিম আগেও ভালো ছিল, এখনো ভালো। শুধু একটা-দুইটা ওভার বা ছোটখাটো ভুলের জন্য রেজাল্ট হচ্ছিল না। এখন যেহেতু আমরা ম্যাচ জেতা শুরু করেছি, আমাদের কনফিডেন্স বিল্ডআপ হচ্ছে। যতগুলো ম্যাচ খেলছি, সবগুলোতে জয়ের জন্যই নামি। সুপার ফোরে যাই কি না যাই, আমাদের লক্ষ্য থাকবে সামনে যতগুলো ম্যাচ আছে সবগুলোতে যেন জিততে পারি।’

সিলেটের ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন হয়েছে। আফিফকে ওপেনিংয়ে দেখা গেছে কোন পরিকল্পনা থেকে? উত্তরে নাবিল সামাদ জানান, ‘আসলে একেকদিন একেকটা প্ল্যান থাকে। আজকে হয়ত কোচের মনে হয়েছে যে লেফটি রাইটি কম্বিনেশন বেটার হবে। আফিফ যেহেতু ওয়ান ডাউন খেলে তাই তার জন্য ওপেনিং করাটা তেমন কঠিন নয়। আগে ওপেনিং সাব্বির করছিল। প্রতিটা ম্যাচেই একটা গেম প্ল্যান থাকে। আজকের প্ল্যানটা এমনই ছিল। সেজন্য আফিফকে দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে দু’টি ম্যাচই জিতেছে সিলেট। আবার সিলেটে হোমগ্রাউন্ডে একটি ছাড়া সব ম্যাচ হেরেছেন। ওই পরাজয়গুলোর জন্য টিম পিছিয়ে গেল কিনা এমন প্রশ্নে নাবিল বলেন, ‘আসলে এভাবে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না যে এই ম্যাচটা জেতা যাবে বা এই ম্যাচটা যাবে না। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারি। হয়ত ওখানে (সিলেটে) কোনো ঘাটতি ছিল।’