ডোপ টেস্টের প্রয়োজনীয়তা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪২

গত বত্সরের মে মাস হইতে বাংলাদেশে চলিতেছে মাদকবিরোধী অভিযান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর মাদকের চোরাচালান, ব্যবসা ও ব্যবহার বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে। ছোট-বড় অনেক মাদক কারবারি হয় আত্মগোপনে আছে নতুবা দেশ ত্যাগ করিয়াছে। ইতোমধ্যে গত এক বত্সরে প্রায় সোয়া লক্ষ মামলায় দেড় লক্ষ মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত গ্রেফতার হইয়াছে। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হইয়াছে তিন শতাধিক। আবার গত ২৫ ডিসেম্বর হইতে কার্যকর করা হইয়াছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮। মাদকের বিরুদ্ধে এই সর্বাত্মক লড়াই অভিনন্দনযোগ্য। এই অভিযানের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার। দরকার ডোপ টেস্টের ব্যাপক প্রচলন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের সহজ ব্যবস্থা থাকিলে এই ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য পাওয়া যাইতে পারে। মাদকাসক্তদের শনাক্ত করিয়া তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও তখন সহজতর হইবে।

জানা মতে, ইতোমধ্যে সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হইয়াছে। ইহা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, সরকারি এই পদক্ষেপটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ চলিতেছে ঢিমেতালে। এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাস্তবায়ন করা হয় নাই। যেহেতু মাদকাসক্ত ড্রাইভারের কারণে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় এই ডোপ টেস্ট চালুরও উদ্যোগ নেওয়ার কথা। কিন্তু কীভাবে ডোপ টেস্ট করা হইবে সেই বিধিমালা তৈরির খসড়াই তৈরি করা হয় নাই এখনো। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এমনকি বিবাহ-সাদির ক্ষেত্রেও এই ধরনের টেস্টের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হইয়া থাকে। কিন্তু এইজন্য প্রয়োজনীয় যে ল্যাব, উপকরণ ও লোকবল দরকার, তাহাও নাই। এইজন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি, কিটস, বায়োকেমিস্টসহ অনেক কিছুই প্রয়োজন। এই প্রয়োজন না মিটায় সাময়িকভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে থাকিলেও দীর্ঘমেয়াদে ইহার ঝুঁকি কমিবার সম্ভাবনা কম।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ৭০-৭৫ লক্ষ মাদকসেবী রহিয়াছে। তাহাদের কারণে আমাদের দেশে পারিবারিক এবং সামাজিক অশান্তি ও অপরাধ বাড়িতেছে। সরকার অভিযানের মাধ্যমে মাদকের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ লাইন ভাঙিয়া দিবার চেষ্টা করিতেছে। পাশাপাশি ইহার চাহিদা ও ঝুঁকির প্রতিও দৃষ্টি দিতে হইবে। ডোপ টেস্ট এইক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, বেলজিয়াম, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, চেক-রিপাবলিকসহ বিভিন্ন দেশে মাদকের অপব্যবহারের বিস্তৃতি রোধে এমনকি স্কুলেও নিয়মিত এই ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা রহিয়াছে। আমাদের সর্বশেষ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ২৪ উপধারার ৪-এ-তে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মাদকাসক্ত ব্যক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্টের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হইয়াছে। সুতরাং এখনই সময় ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করিবার। এই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি।