শাহীদুল ইসলাম শাহীন
আর কত জীবন বিপন্ন হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে? প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় সড়কে বিশৃঙ্খলার নানা চিত্র। যার ফলে অহরহ ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এ কথা আমাদের প্রত্যেকেরই জানা আছে যে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল গত ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০১৮ পর্যন্ত। পরবর্তীকালে এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় ৫-১৪ আগস্ট দশ দিনব্যাপী সড়ক-নিরাপত্তামূলক ‘ট্রাফিক সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয় এবং এসময়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার অপরাধে লাখখানেক মামলার পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীকালে পুরো সেপ্টেম্বর মাসকে ‘ট্রাফিক মাস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিও জনসাধারণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য উত্সাহিত করে।
মূলত এই বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে জনসাধারণের মধ্যে ভালোই সচেতনতা কাজ করে। বিশেষ করে যখন বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাস্তায় থাকে, তখন যাত্রীসাধারণ ট্রাফিক আইন অমান্য করার সুযোগ পায় না। কারণ, এই স্বেচ্ছাসেবকরা এতই একনিষ্ঠভাবে সেবা দিয়ে থাকে যে, জনগণ আইন মানতে বাধ্য হয়।
কিন্তু কথা হচ্ছে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এত বড় একটা আন্দোলন হয়ে যাওয়ার পর ট্রাফিক সপ্তাহের মত কার্যকরী কর্মসূচি পালন সত্ত্বেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ফুটওভার ব্রিজের তেমন ব্যবহার নেই, নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া রাস্তার যেখানে সেখানে যাত্রী নামানো এবং ওঠানো অব্যাহত, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, লাইসেন্সবিহীন চালক ইত্যাদি কারণে মূলত ঘটছে এসব দুর্ঘটনা, ফিরছে না সড়কে শৃঙ্খলা।
এজন্য সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার, বিআরটিএকে আরো বেশি তত্পর হওয়া দরকার, ট্রাফিক পুলিশকে নিজের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া দরকার। প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সচেতনতাই পারে সড়কের এ বিশৃঙ্খলতা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে। সড়কের এই বিশৃঙ্খলা দূরীকরণে আইন অমান্যকারীকে শাস্তির বিধান করলে সচেতনতার বিষয়টি আরও জোরদার হবে বলে বিশ্বাস করি।
n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
