শ্রমিকদের মজুরি প্রণয়ন কাঠামোতে বায়ারদের সম্পৃক্ত করার তাগিদ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৪

পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি প্রণয়ন কাঠামোতে সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে। তাছাড়া মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন পর্যায়ে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে পোশাকখাতে সাম্প্রতিক মজুরি বিতর্ক: কী শিখলাম? শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করা হয়। সিডিপি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সিপিডি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমই-এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। বিষয়ের উপর আলোচনায় তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, পাঁচ বছর আগেও শ্রমিকরা একই দাবিতে আন্দোলন করেছে, আজও তাদের এই বিষয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে। প্রতিটি দেশেই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান অনুযায়ী মজুরি বাড়ানো হয়। এর সঙ্গে পণ্যের মূল্যকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

 তিনি বলেন, আমাদেরও মানসম্মত জীবন-যাপনকে বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশের পোশাকখাত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি না মানলে বাজার হারাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। মজুরি প্রণয়ন কাঠামোতে তাই সব পক্ষের সঙ্গে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের ২০ সেন্টের মধ্যে উত্পাদকরা পায় মাত্র ৫ সেন্ট, এটা বৈষম্যমূলক। এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনিশ বলেছেন, শিল্প মালিকদের সচেতন থাকতে হবে, যাতে কেউ অপপ্রচার চালিয়ে এ শিল্প খাতকে অস্থির করতে না পারে। গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের  বিভ্রান্ত করার মতো ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে। এগুলো প্রতিরোধ করতে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। শিল্প মালিকগণ শ্রমিকের মজুরি বাড়িয়েছে, কিন্তু পণ্যের ক্রেতারা সেই তুলনায় তৈরি পোশাকের মূল্য বাড়াচ্ছেন না। তিনি বলেন, ঠিক নির্বাচনের আগে এই খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই আন্দোলন করা হলো। উত্তরার মতো এলাকায় কোনো গার্মেন্টস না থাকলেও সেখানকার সড়ক অবরোধ হলো। তিনি বলেন, শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি নিয়ে নয়, মজুরি কাঠামো সমন্বয় করার জন্য আন্দোলনে এসেছিল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হলো, ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করতে হবে। এধরনের কাজগুলোকে ষড়যন্ত্র বলে তিনি মনে করেন। কোনো শ্রমিক অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

টিপু মুনশি বলেন, পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন থেকে একজন করে মোট পাঁচজন নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। যাতে সমস্যা হলে দ্রুত সমাধানের দিকে যাওয়া যাবে। এই কমিটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করবে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, এই ধরনের কমিটির একটি স্থায়ী রূপ দেওয়া প্রয়োজন। সেইসঙ্গে সার্বিক বিষয় তদারকিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ভবিষ্যতে মজুরি বাড়ানোর সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আরও বেশি করে মতবিনিময় করে নেওয়া যেতে পারে। নারী শ্রমিকদেরকে তাদের গ্রেড, মজুরি ও অন্যান্য আর্থিক ইস্যুগুলো আরও ভালো করে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করাও জরুরি। সংলাপে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা জানান, যে সকল কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে সেসকল কারখানায় অসন্তোষ হয়নি। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া শ্রমিক অসন্তোষে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়ায় মামলার ঘটনায় শ্রমিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তারা।