ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ন্যাশনাল ব্যাংক লি.
শিক্ষিত বেকারের ক্রমবর্ধমান চাপ ও চাকরির বাজারের সীমাবদ্ধতার কারণে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প আমাদের নেই। কিন্তু পুঁজি সংকট ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে এই খাতটিও আজ রুগ্নপ্রায়। এমতাবস্থায় একমাত্র ব্যাংক খাতই পারে সহজ শর্ত ও সীমিত সুদ হারে ঋণ প্রদান করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে। সম্ভাবনাটি নিয়ে কথা হয় ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এএসএম বুলবুল-এর সঙ্গে। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন এস এন ইসলাম
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যাংকের ভূমিকাই মূখ্য। একচেটিয়া চাকরির বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাকে আমি সমর্থন করি না। চাকরির সন্ধান করে যেসমস্ত তরুণ ঘোরাঘুরি করছে, তারা একটি অনিশ্চিত ও অসম পথে হাঁটছে। আমার মতে, তরুণদের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা হওয়া। এই পর্যায়ে আমাদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তরুণরা শহর, গ্রাম যেখানেই থাকুক, যার যা কিছু আছে তা নিয়েই তাদের ক্ষুদ্র-ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে সাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। সুযোগটা শহরের তুলনায় গ্রামেই বেশি। কারণ সেখানে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্ররোচণা, অনুপ্রেরণা বা চাপের কারণে ক্ষুদ্র ঋণ আজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে এই সম্ভাবনা তরুণরা কেন কাজে লাগাবে না!
তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আমাদের ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যতিক্রমধর্মী ভূমিকা আপনারা দেখতে পাবেন। আপনি যদি ভালুকা, ময়মনসিংহ ও এর প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যান, সেখানে ন্যাশনাল ব্যাংকের অসংখ্য ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা পাবেন। আপনি হয়তো ‘একটি ঘর একটি গাভী’ সম্পর্কে অবগত। এই খাতে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রচুর ক্ষুদ্র ঋণ রয়েছে। উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে আমাদের মূখ্য ভূমিকা রয়েছে। এমনকি উপকূলবর্তী অঞ্চলে মত্স্যজীবীদেরকেও লোন দিয়েছে এই ব্যাংক। এই ব্যাংকের সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারকে অনেক কাছ থেকে জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ওনার বিভিন্ন স্মৃতি বার বার আমাকে আপ্লুত করে। ওনার বাল্যকাল, ওনার ভিশন, উনি কিভাবে এই ব্যাংকটাকে মানুষের কল্যাণে দেখতে চেয়েছেন, মানুষের কষ্ট কিভাবে তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করতো, তা আমি হূদয়ঙ্গম করেছি। গাড়িতে একসঙ্গে যাচ্ছি—উনি মানুষের কষ্ট দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন। আর এজন্যই তিনি ব্যাংকে ‘দারিদ্রমুক্তি ঋণ দান’ নামক স্কিমটি চালু করেন, যা বাংলাদেশে আজ রোল মডেল।
দেশপ্রেমিক এই মানুষটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মজদুর ও গণমানুষের কান্ডারী ও মহানায়ক হিসেবে দেখতেন। তিনি দিনের একটা বড় অংশ কাটাতেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সম্পর্কে আলোচনা করে। তিনি বাংলাদেশ বলতে বঙ্গবন্ধুকে দেখতেন, তাকে নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতেন। আমি দিনে তিন-চারবার ওনার কাছে গিয়েছি। রাতের প্রায় অর্ধেকও কাটিয়ে দিয়েছি, দেখেছি এই দীর্ঘ আলোচনার অর্ধেক জুড়ে কেবল বঙ্গবন্ধু। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতাম বঙ্গবন্ধুর জীবনের বৃত্তান্তগুলো। বঙ্গবন্ধুর অধিকাংশই আমি জেনেছি ওনার আলোচনা থেকেই। জয়নুল হক সিকদার আসলে একটি ইতিহাস। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন গণমানুষের দারিদ্রমুক্তি ও দেশের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে। নীতির প্রশ্নে যিনি ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল। প্রখর স্মরণশক্তিসম্পন্ন প্রতিভাবান এই মানুষটি একজন ত্যাগী বীর মুক্তিযোদ্ধা।
