নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে চাই নারীবান্ধব বিচার ব্যবস্থা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৮

গত বছর নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৪৪১টি ঘটনা ঘটে বলে এক গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমরাই পারি জোট। গবেষণায় দেখা যায় উক্ত নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি এবং ৫০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ২০১৮ সালের প্রকাশিত তথ্য মতে নারী ও শিশু হত্যার বিচার হয়েছে মাত্র ৪১টি ও ধর্ষণের বিচার হয়েছে মাত্র ১৮টি। সংঘটিত হত্যা ও ধর্ষণের তুলনায় বিচারপ্রাপ্তির হার নিতান্তই উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নারী নির্যাতনের তথ্য নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গতকাল শনিবার ডেইলি স্টারের আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘নারীর প্রতি সহিংসতা : সহায়তা প্রাপ্তির সম্ভাবনা’ মত বিনিময় সভায় এ তথ্য প্রকাশ করে। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি) ও অক্সফ্যাম-এর সহায়তায় ‘ক্রিয়েটিং স্পেস টু টেক অ্যাকশন অন ভায়োলেন্স অ্যাগেইন্সট উইমেন অ্যান্ড গার্লস’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়। আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন (যুগ্ম সচিব) বলেন- নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য মেডিক্যালে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা নারীবান্ধব নয়। তিনি প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন- পুলিশ, আইনজীবী, বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানই নারী নির্যাতনের ইস্যুগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না, নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে না।

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, আইনের ধারাগুলো সম্পর্কে মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। কারণ ভুল ধারায় মামলা হওয়ার কারণে মামলার বিচারকার্য বিলম্বিত হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার নারীর আইনজীবী এবং আসামির আইনজীবী যাতে সমান দক্ষতাসম্পন্ন হয় সেই দিকে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে আমরাই পারি জোটের জাতীয় কমিটির কো-চেয়ারপার্সন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন রোধে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী ও নারীবান্ধব করতে হবে। বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, পুলিশের অসহযোগিতা, অপর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা ইত্যাদি কারণে নারী নির্যাতনের হার বেড়েই চলছে। রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবের কারণে পুলিশ আলামত নষ্ট করে, ডাক্তার ভুল ময়না তদন্ত রিপোর্ট দেয়, জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় নির্যাতিতদের ভয়ভীতি দেখায়। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বাল্য বিবাহর শিকার এবং প্রায় ৭০ শতাংশ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার, যা উদ্বেগজনক। তিনি বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে সমর্থনের পাশাপাশি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স অবস্থান দাবি করেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ২০১৮ সালে দায়েরকৃত পিংকি আক্তার মামলার বাদী পিংকি আক্তারের মা। এছাড়া ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের সালমা ফারহানা মুক্তির মামলা এবং ২০১৬ সালে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী পূজা রানী দাস ধর্ষণ মামলার বর্তমান চিত্র এবং তাদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হয়।