তিন ফুট দূরত্বে আসন

স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রেখে দুই এপ্রিলই হবে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ০০:৩৫

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন খারাপের দিকে। অন্যদিকে মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা না নিলে জাতির মেধাবী এই মুখগুলোর ভবিষ্যত্ শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এসব বিবেচনায় রেখেই আগামী ২ এপ্রিল যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা, শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যুত্ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব শাখা মিলে টিমওয়ার্ক ও কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে কাজ করবে এবং পরীক্ষাকেন্দ্র ও এর আশপাশ এলাকার স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা হবে। পরীক্ষার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন কোনো গুজব ছড়াতে না পারে, সে ব্যাপারেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিশেষ শাখাগুলো কাজ করবে। আশা করা যায়, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই এবারের ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত মাসে সংক্রমণের হার ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সেটি এখন ১৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে করোনার বেডের সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন করে আরো অন্তত পাঁচটিকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা হয়েছে। তবে দেশের মানুষ যদি মুখে মাস্ক না পরে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলে, তাহলে করোনা পরিস্থিতি সামলানো মুশকিল হতে পারে।

গতবারের তুলনায় এ বছর এমবিবিএস ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার, এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৪ জন। এ বছর করোনার কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯টি এবং ভেন্যুর সংখ্যা ৫৫টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীদের ও কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষামাণ অভিভাবকদের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে ফটোকপি মেশিনের দোকান, কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখাসহ অন্যান্য তত্পরতার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা তিন ফুট দূরত্ব রেখে বসবে। সবাইকে মাস্ক পরতে হবে, থাকবে স্যানিটাইজার। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকলেও আগের মতো ‘লকডাউনের’ কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন সিদ্ধান্ত হবে, তখন আমরা জানিয়ে দেব।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূরের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ, বিদ্যুত্ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সরকারের গোয়ান্দা শাখার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখার প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।