সংরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনের দাবি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২১

মহিলা পরিষদের মানববন্ধনে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা ও আসন সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করাসহ অব্যাহত নারী ও কন্যা ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বক্তারা এসব কথা বলেন। মহিলা পরিষদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে পরিসদের জাতীয় পরিষদ সভায় আসা ৫৩টি জেলার ৪৬০ জন প্রতিনিধিসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ ৫ শতাধিক প্রতিনিধি মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে পরিসদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, জাতীয় সংসদে দলীয় মনোনয়নের মাধ্যমে নারীর প্রতিনিধিত্ব পোষা তোতা পাখির মতো, দলের শেখানো বুলির বাইরে বৃহত্তর নারী সমাজের পক্ষে কোনো কথাই তারা বলতে পারেন না। কিন্তু বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজের যথার্থ প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। যারা দেশের আপামর সাধারণ নারীর সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা বলবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ ও মাত্রা বৃদ্ধিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বর্তমান সরকারের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা এবং সরাসবি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেয় হয়েছিল। ২০০৯ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১-তে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ব্যবস্থা আরও ২৫ বছর রাখার বিধান করা হয়েছে যা নারী সমাজের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক।

সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর জাতীয় সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে হবে। মনোনয়ন প্রথা বাতিল করে জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এ বিষয়ে আলোচনা উত্থাপন করতে হবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ বলেন, বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়নে নারীরা পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, পেশাগত বহুমুখী দায়িত্ব পালনসহ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী ও কন্যার প্রতি অব্যাহত সন্ত্রাস ও নির্যাতন পরস্পর বিরোধী। তিনি বলেন, নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।