রূপপুর পরমাণু প্রকল্পের রুশ নাগরিকের মৃত্যু

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২২

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

জরুরী চিকিত্সার জন্য চিকিত্সা কেন্দ  প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে একের পর এক রাশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিকও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে গত শুক্রবার হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেরগিন ভ্যাইলি (৫৯) নামের এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বিদ্যুত্ প্রকল্পের রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রোসেম’ এ কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রকল্পের নতুনহাট মোড়ে নির্মাণাধীন গ্রিন সিটির একটি কক্ষে ভ্যাইলি থাকতেন।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকালে গ্রিন সিটির ১ নম্বর ভবনের ৫১ নম্বর কক্ষের বাথরুম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আগেই ভ্যাইলির হূদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সূত্র জানায়, এসময় গ্রীন সিটির মেডিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডা. ফকরুল ইসলামকে খবর দেয়া হলে তিনি এসে পরীক্ষা করে জানান, হূদরোগে আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইন চার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, শেরগিন ভ্যাইলি রোসেম কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৬-৭ জন রাশিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এখানে তাত্ক্ষণিকভাবে সুচিকিত্সার কোনো ব্যবস্থা নেই। স্থানীয়রা জানান, বেশিরভাগ রাশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে হূদরোগে। মূলত অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই তারা হূদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য জরুরি চিকিত্সা কেন্দ  প্রতিষ্ঠার কথা রয়েছে। কবে নাগাদ এই কেন্দ  প্রতিষ্ঠা হবে তা জানা যায়নি। প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রকল্পের কোনো নিজস্ব চিকিত্সক নেই। কেউ অসুস্থ হলে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা প্রাইভেট চিকিত্সকের স্মরণাপন্ন হতে হয়। তবে রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের পক্ষ হতে রাশিয়ানদের দেখভালের জন্য ডা. ফকরুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া আছে। এই প্রকল্পে ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ রুশ নাগরিক কর্মরত রয়েছে। এরা কেউ অসুস্থ হলে প্রকল্প এলাকা হতে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দে  নিয়ে যেতে হয়। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের রাজশাহী বা অন্যত্র পাঠানো হয়।