নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদি কেবল ভারতের প্রধানমন্ত্রী অথবা গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই নন, তিনি একজন ব্যতিক্রম মানুষ। একটি অসাধারণ সাধারণ জীবনের অধিকারী তিনি। অন্তত তার সম্পর্কে যতটা পাঠ করেছি, যতটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি তাতে আমার কাছে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে—তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসীর জীবন গ্রহণ করেছিলেন। ১ হাজার কিলোমিটার হেঁটে হেঁটে তিনি কৈলাস পর্বতে চলে গিয়েছেন! তার ঝোলার মধ্যে থাকত কাঁচা সরিষার তেল আর রেড়ির তেল। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও প্রতি বছর পাঁচ দিনের জন্য তিনি কেবলমাত্র এক বোতল পানি নিয়ে নির্জন জঙ্গলে চলে যেতেন ধ্যান করতে! প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সেদিনও তিনি সারা রাত ধ্যান করে এসেছেন কৈলাসে! ১৭ বছর বয়সের পরে তিনি আর মাছ-মাংস মুখে দেননি! নরেন্দ্র মোদির ‘হবি’ হচ্ছে—চলার পথে ময়লা-আবর্জনা দেখলে সেটা তুলে নিয়ে দূরে কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া! গাছের পাতায় পর্যন্ত ধুলা দেখলে হাত দিয়ে পরিষ্কার করে যাওয়ার অভ্যাস আছে তার! টাকা-পয়সার প্রতি একেবারেই নিরাসক্ত নরেন্দ্র মোদি তার ফতুয়ার পকেটে রাখেন মা হীরাবেনকে প্রণাম করে পাওয়া ৫ বা ১০ টাকার একটি নোট! এবার আসা যাক অন্য ধর্মবিশ্বাসীদের সম্পর্কে তার মনোভাব প্রসঙ্গে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট ২ হাজার কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি রুপি করে দেন। ৩ কোটির অধিক মুসলিম ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়! সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ বছরে সাড়ে ৮ লাখ মুসলিম যুবক-যুবতির কর্মসংস্থান করা হয়েছে! ২০১৪ সালে একদিন নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভিকে বলেন, প্রশাসনে মুসলমানরা কম কেন? মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য এদের অনেকে কোচিং করতে পারে না, এটা অন্যতম সমস্যা। তখন নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে তাত্ক্ষণিকভাবে ভারতের বড় বড় কয়েকটি শহরে সংখ্যালঘুদের বিনা মূল্যে কোচিংয়ের জন্য সিভিল সার্ভিস কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই কোচিং সেন্টারগুলো থেকে প্রশিক্ষিত প্রায় ২০০ মুসলিম ইতিমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য প্রশাসনে এবং পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের সুযোগ পেয়েছে! নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার আগে ভারত থেকে কোটা অনুযায়ী প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজার মুসলিম পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেত। নরেন্দ্র মোদির অনুরোধে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একবারেই ভারতের হজের কোটা ২ লাখ করে দেন! এখন ভারত থেকে প্রতি বছর ২ লাখ মুসলিম হজ করার সুযোগ পায়, যা পাকিস্তানের চেয়েও ২০ হাজার বেশি! এটা সম্পূর্ণ নরেন্দ্র মোদির অবদান। নরেন্দ্র মোদি কাউকে শিখিয়ে দিয়েছেন—মুসলমানদের ওপর হামলা কর, মেরে ফেল ওদের, শেষ করে দে—এ কথা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।
Åএম এইচ রহমতুল্লাহ
