বৈচিত্র্যে ভরা জীবন পরিক্রমা

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ২২:০৩

]ভারতে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে নরেন্দ্র মোদি অনুপ্রেরণাময় জীবনের শুরু হয় উত্তর গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর নামের এক ছোট শহরের অলিগলিতে। ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তার জন্ম হয়। তার ঠিক তিন বছর আগেই ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। তিনি দামোদরদাস মোদি এবং হীরাবাই মোদীর তৃতীয় সন্তান। তার স্কুলের বন্ধুদের স্মৃতিচারণে জানা যায়, বালক বয়সে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, বিতর্কের প্রতি তার ঝোঁক এবং নতুন নতুন বই পড়ার আগ্রহ তার ছিল অসীম। স্থানীয় গ্রন্থাগারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশুনা করতেন তিনি। এজন্য অনেক বিশ্লেষকের মতে, শিশু বয়সেই মোদির চিন্তা-ভাবনা এবং স্বপ্ন তার বয়সের অন্যদের তুলনায় ছিল অনেকটাই আলাদা। এজন্য তার জীবন পরিক্রমার ছত্রে ছত্রে দারুণ বৈচিত্র্য দেখতে পাই।

১৯৬৭ সালে সতেরো বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে ভারত পরিক্রমায় বেরিয়ে পড়েন। দুবছর ধরে তিনি ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে বৈচিত্র্যময় ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। বাড়ি ফিরে আসার পর তিনি এক পরিবর্তিত মানুষে পরিণত হন। তিনি আমেদাবাদে গিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন।

১৯৭২ সালে আমেদাবাদে গিয়ে তিনি আরএসএস-এর প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সে সময় তার জীবন ছিল কঠোর পরিশ্রমের।

আশির দশকে সংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে একজন আদর্শ সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

১৯৮৭ সালে তিনি গুজরাটে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেন।

১৯৯০ সালে গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যাতে কংগ্রেসের পরেই দ্বিতীয় স্থান দখল করে, তার দায়িত্ব পান তিনি। সেটা তিনি নিশ্চিতও করেন।

১৯৯৫ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মোদির সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিজেপির জনসমর্থন বৃদ্ধি পায়। এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১২১টি আসন লাভ করে। ঐ একই বছর থেকে তিনি বিজেপির জাতীয় পর্যায়ের সম্পাদক হিসেবে হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব পান। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত করার জন্য তিনি কাজ করে যান।

২০০১-এর সেপ্টেম্বরে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজেপেয়ীর নিকট থেকে একটি ফোন পান নরেন্দ্র মোদি। ঐ একটি ফোন থেকেই তার জীবনে নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হয়।

২০০১ সালে ৭ অক্টোবর তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন।

২০০২ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর পর সেখানে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে, তারপরও সেই দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদি সমালোচিত হন। তবে এ সংক্রান্ত সব ধরনের মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

২০০২ সালে গুজরাটের নির্বাচনে মোদি জয়লাভ করেন। এই জয় তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

২০০১ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০১৪-এর মে মাস পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময়ে তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০১৪ সালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সে সময় মোদি পাড়ি দিয়েছেন ৩ লাখ কিলোমিটার পথ। সারা ভারতে ৫ হাজার ৮২৭টি জনসভায় তিনি অংশ নেন, ৯ মাসে মুখোমুখি হয়েছেন ৫ কোটি মানুষের। এই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনের পর এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে।

২০১৪ সালের ২৬ মে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

২০১৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনেও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে।

২০১৯ সালের ৩০ মে তিনি দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় টানা সাত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

Å এইচ এম নাজমুল আলম