মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুরে মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বুধবার রাতে সালিশ বৈঠকে হামলায় তিন জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন—গ্রামটির কাসেম পাঠানের পুত্র ইমন পাঠান (২৩), বাচ্চু মিয়ার পুত্র সাকিব মিয়া (১৯) এবং মৃত আনোয়ার আলীর পুত্র বিগত পৌর নির্বাচনের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদ হোসেন মিন্টু (৪০)। এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাত থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইমন পাঠানের লাশ নিয়ে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মানিকপুরের সদর হাসপাতাল রোড থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক হয়ে উত্তর ইসলামপুরে গিয়ে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের আশ্বাস দিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকতে বলেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ নিয়ে ইমন পাঠান একই এলাকার অভিকে থাপ্পড় মারে। পরে ইমন পাঠানের পক্ষের বড় ভাই মিন্টু আবার অভিকে ডেকে নিয়ে থাপ্পড় মারে। বুধবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা নিয়ে উত্তর ইসলামপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে এই নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন রাত সাড়ে ১১টার দিকে সালিশ বৈঠকে বসে। উত্তর ইসলামপুরের মিন্টুর বাড়ির সামনে জামালের দোকান প্রাঙ্গণে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে অভি গ্রুপের লোকজন আকস্মিক উল্লেখিত তিন জনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক জখম করে। সঙ্গে সঙ্গে তারা তিন জনই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে বৈঠকে থাকা লোকজন আহতদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ইমন পাঠানকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আর সাকিব মিয়া ও আওলাদ হোসেন মিন্টুকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার সাকিব মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আওলাদ হোসেন মিন্টুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মিন্টুও মারা যান। তিন জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য :কয়েক দিন ধরেই মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ ঘটনা নিয়ে এখানে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হামলাকারীদের অধিকাংশই ছিল কিশোর। বেশ কিছুদিন ধরেই এখানে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার সামনে ও পেছনে যারাই জড়িত রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, সৌরভ, অভি ও শামীম গ্রুপ এই হামলার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ এই তিন জনের কাউকে গ্রেফতার করতে না পারলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত সৌরভের পিতা জামাল প্রধান রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকা শান্ত রয়েছে।
এদিকে হামলায় তিন জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়।
