অর্থনীতি ডেস্ক
ভিদিয়া অমৃত খান দেশ গার্মেন্টসের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উত্থানের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে দেশ গার্মেন্টসের নাম। বলা হয়, এই গার্মেন্টসের মাধ্যমেই আশির দশকের শুরুতে বাংলাদেশ শতভাগ তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু করে। এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন ভিদিয়া অমৃত খানের পিতা মরহুম এম নূরুল কাদের। তিনিই প্রথম ১৯৭৮ সালে যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কোম্পানিতে ১৩০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় হাতেকলমে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা দেশে এসে পোশাক খাতে কাজ শুরু করেন। যাদের বেশ কয়েক জন পরবর্তীতে নামকরা উদ্যোক্তাও হন। আর নূরুল কাদের খান চট্টগ্রামের কালুরঘাটে প্রতিষ্ঠা করেন দেশ গার্মেন্টস। কেবল দেশ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা নয়, পরবর্তীকালে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রগতিও তিনি বড় ভূমিকা রাখেন।
বলা হয়, তৈরি পোশাকের অগ্রগতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখে দুটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যার একটি ব্যাক টু ব্যাক এলসি, আর অপরটি বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা। ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে রপ্তানিকারক নগদ টাকা না থাকলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অঙ্কের অর্থের কাঁচামাল বাকিতে কিনতে পারেন। আর বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার মাধ্যমে রপ্তানিকারকরা কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। এই দুটি সুবিধা পাওয়ার পেছনে মূলত কাজ করেছিলেন এম নূরুল কাদের।
তার হাতে গড়া দেশ গার্মেন্টস এখন পরিচালনা করছেন ভিদিয়া অমৃত। তিনিও এ খাতে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন। বিদেশে আইন পেশায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও (বার এট ল) দেশে এসে আইন পেশায় থিতু না হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন পিতার রেখে যাওয়া ব্যবসা দেখভালের। বর্তমানে পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা তিনি। ইতিমধ্যে নেতৃত্বেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৩ সালে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরবর্তী দুই বছরে এ খাতের ইমেজ পুনরুদ্ধারে কাজ করেছেন। এ খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ (আইএলও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। পোশাক খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার্স সেফটির উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। বিজিএমইএর এবারের নির্বাচনেও পরিচালক পদে প্রার্থী হয়েছেন। আগামী ৪ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, শ্রমবান্ধব একটি নিরাপদ পোশাক খাত গঠনে তার আরো অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষত এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং করোনা পরবর্তী এ খাতের অগ্রগতিতে নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে কাজ করতে চান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পোশাক রপ্তানিতে নাম্বার ওয়ান এ নিয়ে যেতে তিনি এবং তার প্যানেল কাজ করতে পারবে।
