আবুল কাসেম ভূঁইয়া
ওষুধি বাসক পাতার কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো একসময় বাসক পাতার তেমন গুরুত্ব ছিল না। সর্দিকাশি হলে গ্রামাঞ্চলে বাসক পাতার রস খাওয়ানো হতো। এতে ভালো ফল পাওয়া যেত। আগে গ্রামাঞ্চলে অনেকটা অবহেলিত ভাবে বাসক পাতার গাছ দেখা যেত। বর্তমানে ভেষজ চিকিত্সায় বাসক পাতা অনেক গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো গ্রামাঞ্চল থেকে বাসক পাতা সংগ্রহ করে সিরাপ তৈরি করছে। বাসক পাতার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক উত্সাহী ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে বাসক পাতার চাষ করছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, বরগুনাসহ বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাসক পাতার চাষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাসক পাতা চাষিদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। তারা চাষিদের বাসক পাতা চাষ এবং সংগ্রহ করার কৌশল রপ্ত করতে প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছেন। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালীগঞ্জ এলাকায় বাসক পাতা চাষের উপযোগী হওয়ায় তারা এখানে বাসক পাতা চাষের জন্য কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোস্তাবপুর গ্রামে গত সাত বছর ধরে এই বাসক পাতার চাষ হচ্ছে। এ গ্রামের ১২ জন কৃষক তাদের কেউ কেউ বাড়ির চারপাশ, আবার কেউ ফসলি জমির চারপাশে এই বাসক গাছের ডাল রোপণ করেছেন। এই গ্রামের এক জন কৃষক সাত বছর আগে প্রথমে তার বাড়ির ২০ শতক জমির চারপাশে বাসক পাতার গাছ লাগান। উদ্দেশ্য ছিল বেড়া দিয়ে জমিরক্ষা, অন্যদিকে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। দুই বছর পর কুষ্টিয়া থেকে আসা কিছু লোক নামমাত্র মূল্যে বাসক পাতা কিনে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তারা নিয়মিত বাসকের পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে থাকে। এতে অনেকেই উত্সাহিত হয়ে বাসক পাতা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা এসে কৃষকদের কাছ থেকে এই পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। এই গ্রামের কৃষকরা বছরে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার বাসক পাতা বিক্রি করে থাকেন। বর্তমানে এলাকার সব উপজেলায় প্রায় ১০০ জন চাষি বাসক পাতার চাষ করছেন।
বাসক পাতা চাষ করা কোনো কঠিন কাজ নয়। চারা রোপণের তিন মাস পর থেকে পাতা তোলা যায়। প্রতি কেজি শুকনো বাসক পাতা ৪০ টাকা করে ওষুধ কোম্পানিগুলো ক্রয় করে নিয়ে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে যে পরিমাণ বাসক পাতা উত্পন্ন হচ্ছে তা দিয়ে মাত্র ১০ ভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। অবশিষ্ট চাহিদা ভারত থেকে এনে মেটানো হচ্ছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষেই জানেন না বাসক গাছের ওষুধি এবং বাণিজ্যিক মূল্য। এখন যেভাবে বাসক পাতার চাহিদা এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমাদের কৃষি ক্ষেত্রের জন্য একটি শুভসংবাদ বলা যায়।
