টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে আঞ্চলিক বাণিজ্য

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ২২:৩৬

এম এ মাসুম

 

একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও আমাদের এই অঞ্চলে তার পরিমাণ খুবই কম। আঞ্চলিক বাণিজ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বের যে কোনো এলাকার চেয়ে পিছিয়ে আছে। এ অঞ্চলে বিদেশি বাণিজ্যের মাত্র ৫ শতাংশ হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। আসিয়ান দেশগুলো বহির্বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ করে নিজেদের মধ্যে। ইইউতে আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬০ শতাংশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উত্সবে যোগ দিয়েছেন ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের রাষ্ট্র প্রধানরা। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি  নিয়েও আলাপ আলোচনা হচ্ছে। এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ভারতে সহস্রাধিক আইটেমের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এসবের মধ্যে আছে—তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য,  বাইসাইকেল উল্লেখযোগ্য। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এসব পণ্য ভারত নিজেও উত্পাদন করে এবং অন্য দেশে রপ্তানিও করে। এই অভিন্ন পণ্যের উত্পাদন বা সমজাতীয় পণ্যের রপ্তানির কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা কম। এ সুযোগে সে দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারেন। প্রতিবেশী হওয়ায় বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় এখানে কম খরচে পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা বাড়ছে না। অন্যদিকে ভুটান-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইটি), কৃষি, হর্টিকালচার, ট্যুরিজম এবং মত্স্যসহ আরো নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

ভুটানের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে নেপালের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি—পিটিএ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হিমালয়কন্যা নেপালের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা বিপুল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাহাড়ঘেরা নেপালে খাদ্যপণ্য, মোটরসাইকেল, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ৫৬ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থের পণ্য রপ্তানি হয়েছে নেপালে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ কোটি টাকা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নেপালে রপ্তানির এই চিত্র কাঙ্ক্ষিত নয়। এটি আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। চার বছর আগে উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঐ চুক্তির বিষয়টি এত দিন আটকে ছিল। সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে এ বিষয়ে নতুন করে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ১৬ কোটি ডলারের মতো। এর মধ্যে ১২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে শ্রীলঙ্কা। আর বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৪ কোটি ডলারের মতো। অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানো গেলে দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বাড়ানো সম্ভব। শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।