বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বনেতারা। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এসব বার্তা পৃথক পৃথকভাবে প্রচার করা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যে অগ্রগতি সাধন করেছে তার মুগ্ধকর প্রতিফলন এটি। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। আমরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধির স্বপ্নের সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ৬ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি রয়েছে। তারা যুক্তরাজ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য খাতে অনেক বাংলাদেশি চিকিত্সক, নার্স ও কর্মরত যারা মানুষের সেবা করছেন এবং করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষকে টিকা দিচ্ছেন। আশা করি, গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হবে এবং তার সঙ্গে কাজ করতে আমি আগ্রহী।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন অসাধারণ নেতা ছিলেন। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গঠনমূলক সহযোগিতা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য আমার পক্ষে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি ভালো হলে, বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা আমার আছে। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্বমূলক অনুভূতি আমাদের সম্পর্ককে আরো উন্নত করার জন্য ইচ্ছাশক্তিকে দৃঢ় করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, আপনার পিতা, বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জন্য সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরো গভীর হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার বার্তায় বলেন, পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আসুন, জনগণের উন্নত ভবিষ্যত্ গড়তে আমরা সম্পর্ক নবায়ন করি এবং দুই দেশের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ বন্ধন গড়ি।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অসাধ্য সাধন করেছে। নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকেও বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে। গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সেনার অংশগ্রহণ, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে অংশীদারিত্ব এবং মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব সমাজে অবদান রেখে চলেছে বাংলাদেশ। এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমি সবার শুভ কামনা করছি।
