আমিরের নির্দেশে অধ্যাপক রেজাউলকে খুন করেন তার-ই ছাত্র জঙ্গি খালেদ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম তার-ই ছাত্র জঙ্গিনেতা শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদের হাতে খুন হন। রেজাউল করিমকে হত্যার এক মাস আগ থেকেই তার ওপর নজর রেখেছিলেন শরীফুল। কিলিং মিশনে তিনিসহ অংশ নেন তিনজন। শরীফুল রাবির ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েন। জেএমবি’র আমির ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যাপক রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় জঙ্গি সদস্যদের মাধ্যমে রেকি ও তথ্য উপাত্ত যেমন— ঠিকানা, ফোন নম্বর সংগ্রহ, অবস্থান, গতিবিধি ইত্যাদি নজরদারি করা হয়েছিল। গতকাল শনিবার দুপুরে কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও এই শরীফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ওরফে রাহাত ওরফে সাইফুল্লাহ ওরফে নাহিদ ওরফে আবু সোলাইমান (২৭)। অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনি। শুক্রবার র্যাব চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ির পাশে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় অধ্যাপক রেজাউল করিমকে। এ ঘটনায় জেএমবির ৮ জঙ্গির নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। গত বছরের ৮ মে জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

শরীফুল ইসলাম রাজশাহীর বাগমারায় ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০-২০১১ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৩ সালে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আহসান হাবিব ওরফে শোভনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যুক্ত হন। এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, শরীফুলের সঙ্গে অধ্যাপক রেজাউল করিমের কোনও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না। শুধুমাত্র আমিরের নির্দেশে ও সাংগঠনিকভাবে টার্গেট কিলিংয়ের অংশ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়।