ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফর ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন স্থানে তান্ডবের ঘটনায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ১ নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে।
শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, এবিপিএন ও ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্যরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। গতকালের ঘটনায় আজ শনিবার (২৭ মার্চ) পর্যন্ত কোন মামলা না হলেও ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তান্ডবের ঘটনা বিষয়ে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গতকাল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় সফরকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় তান্ডব চালায় আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ারে আগুন লাগিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে বিক্ষুব্ধরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেল স্টেশনে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সিগন্যাল বক্স ভেঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়। রেল স্টেশনের সিগন্যাল, মাস্টার রুম, কন্ট্রোল রুম অন্যান্যদের কর্মকর্তাদের কক্ষ ব্যাপক ভাংচুর করে। রেল লাইনের স্লিপার তুলে ফেলে বিক্ষুব্ধরা।
এ ছাড়াও পুলিশ সুপারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে এবং জেলা পরিষদ, পৌর মুক্ত মঞ্চ, পৌর মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুারাল ভেঙ্গে ফেলে। এসব ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আশিক নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সে শহরের কাউতলীর দাতিয়ারা গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পরে বিক্ষুব্ধরা লাশ নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ করে।
এ বিষয়ে, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া, আজ রবিবার হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিছিল হয়েছে। এসময় বক্তারা, মোদীর বাংলাদেশ সফরের নিন্দা জানান এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর হামলা ও হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করেন।
ইত্তেফাক/এনএ
