ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে অভিনব কৌশলে সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র যাত্রীসাধারণের পকেট মেরে তাদের নিঃস্ব করছে। এ চক্রটি যাত্রীদের সাথে বন্ধুসুলভ ব্যবহার করে তাদের বোকা বানিয়ে পকেট কেটে নিচ্ছে।
জানা গেছে, মহাসড়কের গাবতলী টার্মিনাল থেকে সাভারের নবীনগর-নয়ারহাট এমনকি আরিচা পর্যন্ত এই চক্রটি সক্রিয়। প্রতি গাড়িতে পকেটমার চক্রের ৩/৪ জন ওঠে। যাত্রী বোঝাই গাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের পাশে ও পেছনে এমনভাবে ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়ায় যেন তারাও যাত্রী। টার্গেটকৃত ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকুক কিংবা সিটে বসেই থাকুক তার পাশে গিয়ে বমির অভিনয় করে পকেটমারদের একজন সদস্য। ঠিক এসময় চক্রের অন্য সদস্যরা যাত্রীকে ‘ভাই কিংবা আংকেল’ সম্বোধন করে তার উদ্দেশে বলে যে, আপনার শার্টের পেছনটা বমিতে মেখে গেছে। এ কথা বলেই পকেটমাররা নিজেরাই যাত্রীর পোশাক পরিষ্কার করার জন্য উদ্যোগী হয় এবং মোছামুছি করার এক পর্যায়ে যাত্রীর পকেট হাতিয়ে নেয়। পরে দ্রুত নিকটতম স্ট্যান্ডে নেমে যায়। ঘটনাটি এমনভাবে ঘটায় যে বোঝার উপায় থাকে না এরা পকেটমার চক্রের সদস্য। কিছুক্ষণ পর যখন পকেটমারের শিকার যাত্রী বুঝতে পারেন যে তার পকেটমার হয়েছে তখন তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পকেটমারের শিকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, পকেটমারদের এ কৌশলটি নতুন। চক্রের সদস্যরা যাত্রীদের প্রতারিত করার একটু পূর্বে মুখে ফেনা তৈরি করার জন্য মুখের মধ্যে একটি বিশেষ পদার্থ পুড়ে নেয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা সহজেই বোকা বনে যান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পকেটমারদের প্রতিটি দলে ৩/৪ জন সদস্য থাকে। একজন বমির অভিনয় করে, দুইজন সাধারণ যাত্রীবেশে যাত্রীর পোশাক থেকে বমি মোছার অভিনয় করে পকেট হাতিয়ে নেয় এবং অপর একজন বাসের গেটের কাছে অবস্থান করে নিকটবর্তী স্ট্যান্ডে বাস থামানোর সংকেত দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রের সাথে বাসের চালক ও হেলপারও জড়িত। তারা পকেটমারদের কাছ থেকে ভাগ পায়।
ঢাকা জেলা ডিবির (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ জানান, বমি করে পকেটমারের এ কৌশলটি নতুন শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সাভারে পকেটমার চক্রের বেশকিছু সদস্যকে আটক করা হয়েছে। নতুন ধরনের এই পকেটমার চক্রের সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
