কুমুদিনী হাসপতালে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে স্বামী!

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ২২:৫৪

টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলু (৩০) নামের এক গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী মো. মিজানুর রহমান মিজানের (৪৫) বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘাতক ব্যাংক কর্মকর্তা মিজান পালিয়ে গেছে। গতকাল শনিবার বিকালে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে প্রসূতি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে হাসপাতালের ভেতরে পাঁচ দিনের শিশুকন্যাকে রেখে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় কুমুদিনী হাসপাতাল এবং টাঙ্গাইল জেলা ও মির্জাপুর উপজেলা   প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি সন্ধ্যায় কুমুদিনী হাসপাতালে পরিদর্শনে এসে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ইলুর স্বজনদের আহাজারি। ইলুর মামি খোদেজা বেগম (৫৫) জানান, ইলুর পিতার নাম রফিকুল ইসলাম। গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলার রোমানতলা গ্রামে। মিজান সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি টাঙ্গাইল থেকে ভোলা জেলায় বদলি হয়ে গেছেন। আর ইলু টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন মনোমালিন্য ছিল। গত ২২ মার্চ প্রসব ব্যথা নিয়ে ইলু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে একটি কন্যাশিশু জন্ম দেন। শনিবার দুপুরে মিজান কুমুদিনী হাসপাতালে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে দেখতে যান। স্বামীকে ওয়ার্ডে রেখে শিশুকন্যাকে দুধ খাওয়ানের জন্য তিনতলায় যান। ফিরে এসে দেখেন রুমের দরজা তালা। ঘটনাটি পাশেই কর্তব্যরত নার্স ও চিকিত্সকদের জানালে তারা চাবি এনে দরজা খোলে দেখেন বালিশ চাপা দিয়ে ইলুকে হত্যার পর ঘাতক মিজান পালিয়ে গেছে। তখনো ইলুর মুখ দিয়ে ফেনা উঠছিল।

টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল অফিসের ইমাম হোসেন জানান, মিজান দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তাকে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করত মিজান। এ নিয়ে জেলায় বেশ কয়েক বার বিচার সালিশও হয়েছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন বলেন, হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রসূতি ইলুর স্বামী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার পর দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) দীপংকর ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিহত গৃহবধূর ময়নাতদন্তের পর মামলার প্রস্তুতি চলছে।