নতুন বই

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তবুদ্ধি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ১৯:৫৮

আহমাদ মাযহার

বাঙ্গালা গবেষণা

 

‘মুক্তিযুদ্ধ : বইয়ের আলোয়’ উপশিরোনামের প্রথম পর্বে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চারটি বিশিষ্টতাসম্পন্ন বইয়ের পর্যালোচনা। নিছক বই-সমালোচনা রচনার অভিপ্রায়ে নয়, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতকে অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষায় এই সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলো লিখিত। ‘রাষ্ট্র ও সমাজ’ উপশিরোনামের দ্বিতীয় পর্বটিকে বলা যেতে পারে রাষ্ট্র ও সমাজ প্রভাবিত সাহিত্যিক সত্তার উপলব্ধি ও প্রতিক্রিয়া! এসব রচনায় আভাসিত হয়েছে রাষ্ট্রসমাজ ও সাহিত্যসমাজের স্পর্শকাতরতা প্রসঙ্গে লেখকের অকিঞ্চিত্কর বোধি! বাংলাদেশের পুস্তক-প্রকাশনা, বইমেলা ও লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন নিয়ে লেখকের দীর্ঘ কালের যুক্ততার চিহ্ন রয়েছে ‘সাহিত্য ও বইয়ের বাস্তবতা’ পর্বে। ‘ব্যক্তিত্বের আলোয়’ উপশিরোনাম চিহ্নিত সর্বশেষ পর্বের রচনাগুলো মূলত কয়েকজন ব্যক্তির সামগ্র্য বা বিশিষ্টতার পর্যালোচনা।

মোটা দাগে ‘আধুনিকতা’র যেসব শনাক্তিচিহ্ন রয়েছে তার মধ্যে শিল্প-উত্পাদন-ভিত্তিক সমাজ গঠন, দ্রুত নগরায়ণের বিকাশ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবক্ষয়ী প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য। এই বইয়েও ‘আধুনিকতা’ বলতে মোটামুটি সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা সেই ভাবরূপকেই বুঝতে চাওয়া হয়েছে। আধুনিকতার এ জাতীয় অনুষঙ্গ নিয়ন্ত্রিত শিল্পকলা সৃষ্টির দৃষ্টিভঙ্গিকেই শিল্পসাহিত্যের চর্চায় ‘আধুনিকতাবাদী’ বা ‘আধুনিকবাদী’ বলা হয়ে থাকে। ধারণার সৌষ্ঠবের চেয়ে ধারণার রূপ গুরুত্ব পায় ‘আধুনিকবাদে’। আধুনিকবাদের উদ্ভব ইয়োরোপে বলে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ইয়োরোপমুগ্ধতা প্রাধান্য পায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের ও বিশেষ করে ষাটের দশকে এই মনোভঙ্গি বাংলাদেশে প্রাধান্য অর্জন করে। মোটা দাগে এই দৃষ্টিকোণকেই এই বইয়ে ‘আধুনিকবাদ’ অভিধায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইয়োরোপে ‘আধুনিকবাদী’ দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতাকে সমালোচনা করে যে দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব হয় তাকে উত্তর-আধুনিক বা আধুনিকোত্তর দৃষ্টিভঙ্গি বলা হয়ে থাকে। এই বইয়ের লেখককে কখনো কখনো আধুনিকতা ও আধুনিকবাদের সমালোচনা করতে দেখা যাবে। অর্থাত্ এই বইয়ের লেখকের চৈতন্য ‘আধুনিকবাদে’র প্রশ্নে দ্বান্দ্বিক; কখনো কখনো আধুনিকবাদ অতিক্রমীও মনে হতে পারে! সে অর্থে লেখকের দৃষ্টিকোণকে ‘উত্তরাধুনিক’, ‘আধুনিকোত্তর’, ‘অধুনান্তিক’ ইত্যাদি কোনো প্রত্যয়েই নির্দেশ করা সঙ্গত মনে হতে পারে। কিন্তু লেখক এইসব শব্দের অভিধা-লক্ষণা-ব্যঞ্জনা এই তিন তাত্পর্যের কোনো কোনোটাতেই সন্তুষ্ট নন। লেখকের অবস্থানকে বরং ‘আধুনিকতাসংশয়ী’ বলা যেতে পারে!