ওদের গল্পটা ভিন্ন হতেও পারত...

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ২১:০৭

 

 

  আজাহার ইসলাম

 

শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। আজকের শিশু আগামী প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারাই আগামীর ভবিষ্যত্। কিন্তু অনেক শিশুই যথাযথ সুবিধা ও পরিচর্যার অভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিশুশ্রম প্রতিরোধে আমাদের দেশে আইন থাকলেও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকায় শিশুশ্রম ক্রমেই বাড়ছে। হোটেল বয়, ভ্যানচালক, ফুল বিক্রেতা, হকারসহ নানান নামে পরিচিত হচ্ছে তারা। অল্প বয়সেই তাদের ঘাড়ে সংসারের বোঝা। অথচ এই বয়সে কাঁধে স্কুলব্যাগ থাকার কথা।

বাবা অথবা মা অসুস্থ অথবা পরপারে পাড়ি জমানোয় সংসারের বোঝা এসে পড়ছে এসব শিশুর কাঁধে। উপায়ন্তর না পেয়ে বেছে নিচ্ছে শ্রমজীবী হওয়ার পথ। যার মধ্যে গুটিকয়েক শিশু পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারলেও অধিকাংশই সংসারের বোঝা টানতে টানতে আর সুযোগ হয়ে ওঠে না। অথচ তাদের মনেও বাসনা, কাজ ছেড়ে স্কুলে যাবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে। এসব স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে যায়।

ছোট কাঁধে এত বড় বোঝা চেহারা দেখলে বুঝে ওঠা মুশকিল। অন্তরের কষ্ট চাপিয়ে রেখে হাসিমুখেই সম্বোধন করতে দেখা যায় এদের। এরকম ক্ষুদে শ্রমজীবী ও ভ্যানচালক শিশুদের দুঃখ দুর্দশা ভাগাভাগি করতে জাতীয় শিশু দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব। কাজের ব্যস্ততায় কথা বলার যেন ফুসরত নেই শিশুদের। তবু নিজের কাজকে কিছু সময়ের জন্য ছুটি জানিয়ে প্রেস ক্লাবের এই আয়োজনে যোগ দিয়েছে তারা। তাদের গল্পের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন।

মায়া জড়ানো শিশুরা একে একে বর্ণনা করে তাদের জীবনযুদ্ধের  গল্প। ছোটবেলায় বটবৃক্ষতুল্য বাবাকে হারিয়েছে জিহান। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারেনি। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। মায়ের যত্সামান্য উপার্জন আর জিহানের সারা দিনে ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসার। করোনা পরিস্থিতিতে তেমন আয় হয় না। ফলে সংসার চালানো আরো দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে বলে জানায় সে।

কাজলের গল্পটাও প্রায় এমনই। সংসারের হাল ধরতে চতুর্থ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালাতে পারেনি। মা ও ভাইবোনের মুখের দিকে তাকিয়ে পা দিয়েছে ভ্যানের প্যাডেলে। এদিকে তারিক ছোটবেলায় মমতাময়ী মাকে হারিয়েছে। ছাতার মতো বাবাও আলসারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। পড়ালেখার পাশাপাশি ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে। বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয় শ্রমজীবী শিশুদের। এমনকি ছোটখাটো ভুল করলেও মাঝেমধ্যে মারধরের শিকার হয় মালিকদের দ্বারা। শত কষ্ট মোকাবিলা করে দিনশেষে পরিবারের জন্য দুমুঠো আহার জোগাড় করা তাদের কাছে তৃপ্তির ঢেঁকুর।